logo

হাওরে ‘ধানের জাদুঘর’, এক জমিতেই ৫১ জাতের ধান চাষ

হাওরে ‘ধানের জাদুঘর’, এক জমিতেই ৫১ জাতের ধান চাষ

বোরো ফসলের ভান্ডার খ্যাত সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে প্রথমবারের মতো স্থাপন করা হয়েছে ‘রাইস মিউজিয়াম’ (ধানের জাদুঘর)। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি)–এর সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক কার্যালয়ের উদ্যোগে এবং এলএসটিডি প্রকল্পের অর্থায়নে শান্তিগঞ্জ উপজেলার সাংহাই হাওরপাড়ের উজানীগাঁও গ্রামের কাছে ৮ শতক জমিতে পাশাপাশি ৫১টি জাতের বোরো ধানের চারা রোপণ করে এই প্রদর্শনী খামার গড়ে তোলা হয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সুনামগঞ্জের ছোট-বড় ১৩৭টি হাওরে প্রায় ২ লাখ ২৩ হাজার ৫০৫ হেক্টর বোরো জমি রয়েছে। এসব হাওরে প্রতি বছর প্রায় ১৪ লাখ টন বোরো ধান উৎপাদন হয়ে থাকে। যার বাজারমূল্য প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা। জেলায় কৃষক রয়েছেন প্রায় ১০ লাখ। কিন্তু নতুন ও উন্নত জাতের অনেক ধানের নাম জানেন না কৃষকরা।

ব্রি’র সুনামগঞ্জ কার্যালয়ের দাবি, বোরো ধানের বৈচিত্র্য সম্পর্কে কৃষকদের ধারণা দেওয়ার জন্য ৮ শতক জমিতে পাশাপাশি ৫১টি জাতের ধান চাষ করে রাইস মিউজিয়ামটি করা হয়েছে। গেল ২২ জানুয়ারি উজানীগাঁও গ্রামের কাছে করা রাইস মিউজিয়ামের প্রতিটি জাতের ধানের পাশে খুঁটি পুঁতে স্টিকার (নাম লিখে) দেওয়া হয়েছে কৃষকদের সুবিধার জন্য। মিউজিয়ামে বাশমতি টাইপের ব্রি ধান-১০৪, উচ্চমাত্রার জিংক সমৃদ্ধ লম্বা ও চিকন টাইপের ব্রি ধান-১০২, লম্বা ও চিকন জিরা টাইপের ব্রি ধান-১০৮, স্বল্প জীবনকালের ব্রি ধান-৮৮সহ উচ্চফলনশীল জাতসহ নানা ধান রোপণ করা হয়েছে।

উজানীগাঁও গ্রামের কৃষক আব্দুর রহিম ও রাজু মিয়া এশিয়া পোস্টকে বলেন, বাপ-দাদার আমল থেকেই আমরা কয়েকটা জাতের ধানের নাম শুনে ও দেখে আসছি। এই প্রথম ব্রি অফিসের মাধ্যমে একসঙ্গে ৫১টা জাতের ধানের চারা দেখলাম। এসব ধানের নাম আগে কখনও শুনিনি। এইবার আমরা দেখব কোন জাতের ধান খরায় নষ্ট হয় না, রোগ বালাই কম হয়, পোকা-মাকড়ের উপদ্রব কম ও কোন ধানটি বেশি ফলে

সুনামগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক এশিয়া পোস্টকে বলেন, শুনেছি ব্রি’র উদ্যোগে শান্তিগঞ্জের সাংহাই হাওরের পাড়ে রাইস মিউজিয়াম করা হয়েছে। কোন জাতের ধানগুলো বোরো মওসুমে হাওরে চাষাবাদের উপযোগী, হাওরের পরিবেশের সঙ্গে কোনটি মানানসই তা জানা যাবে। এতে কৃষকদের সুবিধা হবে, কৃষকরা অনেকগুলো ধানের জাত সম্পর্কে জানতে পারবেন।

ব্রি’র সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও প্রধান ড. মো. রেজওয়ান ভূঁইয়া এশিয়া পোস্টকে বলেন, ব্রি’র উদ্ভাবিত ও প্রচলিত জাতের বোরো ধানের বিষয়ে কৃষকদের ধারণা দেওয়ার জন্য এই রাইস মিউজিয়ামটি করা হয়েছে। কৃষকরা সাধারণ ৫-৭ জাতের ধান চাষ করে থাকেন। ব্রি’র উদ্ভাবন করা বিভিন্ন বৈশিষ্টের, বিভিন্ন গুণের, বিভিন্ন জাতের ধান তারা দেখতে পান না ও জানতে পারেন না। ধানের বৈচিত্র্য সম্পর্কে ধারণা দেওয়ার জন্য একটি জমিতে এক সঙ্গে ৫১টি জাত রোপণ করা হয়েছে।