সাজেক সড়কে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ, বিপাকে পর্যটকরা

রাঙামাটির জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র সাজেক সড়কে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ কর্মসূচি চলছে। রোববার (১১ অক্টোবর) সকাল থেকে ‘সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি’ ও ‘সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন’-এর ডাকে এ অবরোধ পালিত হচ্ছে।
অবরোধের কারণে সাজেকে পর্যটকদের ভ্রমণ ও যাতায়াত নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সড়ক যোগাযোগ বন্ধ থাকায় সাজেকের ভেতরে বেশ কয়েকজন পর্যটক আটকে পড়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকাল থেকেই সাজেক-দীঘিনালা সড়কের গঙ্গারাম উঁচাবাজারসহ বিভিন্ন পয়েন্টে টায়ার জ্বালিয়ে পিকেটিং করছেন অবরোধ সমর্থকেরা। ফলে সাজেক ও বাঘাইছড়ি থেকে দীঘিনালাগামী সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে।
এর আগে শনিবার বিকেলে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির সদস্য সচিব বিজয় কান্তি চাকমার স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে অভিযোগ করা হয়, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) নামে একটি সশস্ত্র সন্ত্রাসী দল সাজেকে ধারাবাহিকভাবে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করে রেখেছে। তারা প্রতিনিয়ত সাধারণ মানুষকে হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে। এসব সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার এবং স্থানীয়দের সার্বিক নিরাপত্তা ও জানমাল রক্ষায় তারা এ কঠোর কর্মসূচি পালনে বাধ্য হচ্ছেন।
এ বিষয়ে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির সদস্য সচিব বিজয় কান্তি চাকমা জানান, জেএসএস নামধারী সন্ত্রাসীদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে আমরা এই অবরোধের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সরকার তাদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান আইনি ব্যবস্থা না নেওয়া পর্যন্ত আমাদের এই আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
সাজেক পর্যটন কেন্দ্রের লাইনম্যান মো. ইয়াছিন আরাফাত বলেন, শুক্রবার স্কর্টে ছোট-বড় গাড়ি ও মোটরসাইকিলসহ মোট ৯০টি গাড়ি প্রবেশ করেছে। এতে প্রায় ৯০০-এর বেশি পর্যটক সাজেকে প্রবেশ করেছেন।
সাজেক কটেজ মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক মতিজয় ত্রিপুরা বলেন, অবরোধের কারণে দুইবারের পরিবর্তে দুপুর ২টায় একবার স্কর্ট যাবে। দুপুরের সরকারি স্কর্টে পর্যটকেরা নামবেন এবং ফিরে আসবেন বলে আশা করছেন তিনি।
সাজেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তোফাজ্জল হোসেন বলেন, সকাল থেকে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। পর্যটনকেন্দ্রে পর্যটকেরা নিরাপদে আছেন। তবে দুপুরের স্কর্টে পর্যটকদের নিরাপদে খাগড়াছড়ি নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।