জীবন বাঁচাতে গিয়ে জীবনের ঝুঁকি, নিরাপত্তাহীনতায় রোগীরা

মানুষের চিকিৎসাসেবার আশ্রয়স্থলই যেন পরিণত হয়েছে ঝুঁকির কেন্দ্রে। কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরাজীর্ণ ভবনে প্রতিদিন আতঙ্ক নিয়েই চিকিৎসা নিচ্ছেন শত শত রোগী।
সম্প্রতি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটির দ্বিতীয় তলার ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে অল্পের জন্য রক্ষা পান এক রোগীর স্বজন ও একটি শিশু। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক উদ্বেগের সৃষ্টি হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ৫০ শয্যার এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দ্বিতল ভবনটি ১৯৮০ সালে নির্মিত। বর্তমানে ভবনটির অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। বিভিন্ন স্থানে ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে, দেয়ালে দেখা দিয়েছে ফাটল। সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, যেকোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।
এমন ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশেই প্রতিদিন আন্তঃবিভাগে ৬০ থেকে ৭০ জন এবং বহির্বিভাগে ৪০০ থেকে ৫০০ জন রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। একই ভবনে চলছে পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমও।
উলিপুর উপজেলা ও পৌর এলাকার প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ওপর নির্ভরশীল। অথচ এখানে ৩৮ জন চিকিৎসকের পদ থাকলেও কর্মরত আছেন মাত্র ১৬ জন। সেবিকাসহ অন্যান্য কর্মচারীর সংখ্যা ৩৪।
উপজেলার দলদলিয়া ইউনিয়ন থেকে আসা সালাম মিয়া বলেন, এই হাসপাতালে আসলেই ভয় লাগে। ভবনের অবস্থা খুবই খারাপ। রোগীরা সব সময় আতঙ্কে থাকে।
এক রোগীর স্বজন হাজরা বেগম বলেন, দুই দিন ধরে হাসপাতালে আছি, খুব ভয় লাগে। মনে হয় কখন ছাদ খসে পড়ে। দ্রুত ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা দরকার, না হলে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
উলিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. মো. তানজিরুল ইসলাম বলেন, দ্রুত ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে নতুন ভবন নির্মাণ না করলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি রয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ বলেন, ভবনটি দীর্ঘদিন ধরেই ঝুঁকিপূর্ণ। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
কুড়িগ্রাম স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহফুজুর রহমান বলেন, ভবনটির ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার কথা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।
কুড়িগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. স্বপন কুমার বিশ্বাস বলেন, রোগীদের নিরাপত্তাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বিকল্পভাবে চিকিৎসাসেবা চালু রেখে ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।