logo

কান ধরে দাঁড় করে রাখা হলো পুলিশ সদস্যকে

কান ধরে দাঁড় করে রাখা হলো পুলিশ সদস্যকে

রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলায় মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নারীসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ঘাতক বাসটিকে পালিয়ে যেতে সহায়তা ও ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ ওঠে পুলিশের বিরুদ্ধে। এতে থানার এক এসআইকে কান ধরে দাঁড় করিয়ে রাখার অভিযোগ উঠেছে বিক্ষুব্ধ জনতার বিরুদ্ধে। এ সময় থানার ওসিকেও আটকে রেখে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করার অভিযোগও ওঠে। 

এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। 

রোববার (২৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যার এ ঘটনায় পুলিশের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

লাঞ্ছনার শিকার দুই পুলিশ সদস্য হলেন— বেলপুকুর থানার ওসি মো. আরজুন ও এসআই সুভাষ চন্দ্র।

সূত্র জানায়, রোববার বিকাল ৫টার দিকে রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার পোল্লাপুকুর এলাকার রাজশাহী-নাটোর সড়কে যাত্রীবাহী একটি বাস ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে বেসরকারি একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীসহ তিনজন নিহত হন। এ ঘটনার পর দুর্ঘটনার প্রতিবাদে শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা রাজশাহী-নাটোর মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। এতে মহাসড়কের দুই পাশে কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়ে।

খবর পেয়ে বেলপুকুর থানার ওসি মো. আরজুন এসআই সুভাষকে সঙ্গে নিয়ে লাশ উদ্ধারে গেলে ক্ষুব্ধ জনতা তাদের একটি টিনের ঘরে আটকে রাখে। এ সময় এসআই সুভাষকে কান ধরে দাঁড়িয়ে থাকতে বলা হয়। কর্তব্যে অবহেলার অভিযোগ তুলে ওই টিনের ঘরের চারপাশ দিয়ে বিক্ষুব্ধ জনতা তাদের গালাগাল করতে থাকে।

বেলপুকুর থানার ওসি মো. আরজুন এশিয়া পোস্টকে বলেন, যদিও দুর্ঘটনাস্থলটি আমাদের থানা এলাকার নয় তারপরও আমরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। এরপর সেখানে জনতা আমাদের কাজে অবহেলার অভিযোগ তুলে আটকে রাখে। ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা গিয়ে আমাদের উদ্ধার করেন।

আরএমপির মুখপাত্র ও উপ-পুলিশ কমিশনার গাজিউর রহমান বলেন, পুলিশের কাজ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা। তবে তাদের (হয়রানির শিকার পুলিশ সদস্য) সেই কাজে বাধা প্রদান করা হয়েছে। যেখানে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে সে সড়কটি টানা রাস্তা। এখানে চালকের গাফিলতিতে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। পুলিশের এতে কোনো হাত নেই। পরে পুলিশ লাশ উদ্ধারসহ ঘটনার তদন্তে গেলে ঘটনাস্থলেই মামলা নিতে বলা হয় এবং পুলিশ সদস্যদের আটকে রাখা হয় ও লাঞ্ছিত করা হয়। এরপর সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।