logo
Advertisement

কলেজের জমি প্লট করে বিক্রির পাঁয়তারা, বাউন্ডারি নির্মাণে বাধা

কলেজের জমি প্লট করে বিক্রির পাঁয়তারা, বাউন্ডারি নির্মাণে বাধা
কলেজের প্রাচীর তৈরিতে বাধা দিলে কাজ বন্ধ হয়ে যায়। ছবি: এশিয়া পোস্ট

কুমিল্লার ঐতিহাসিক নওয়াব ফয়জুন্নেছা সরকারি কলেজের ক্যাম্পাসের ভেতরে থাকা প্রায় ৭১ শতাংশ জমি দখল চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে একটি মহলের বিরুদ্ধে। কলেজের সীমানাপ্রাচীর (বাউন্ডারি ওয়াল) নির্মাণকাজে বাধা দিয়ে ওই জমিতে বালু ফেলে প্লট আকারে ভাগ করে বিক্রির পাঁয়তারা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন কলেজ কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকালে লাকসাম উপজেলার নওয়াব ফয়জুন্নেছা সরকারি কলেজের ক্যাম্পাসে এ ঘটনা ঘটে।

কলেজ সূত্রে জানা গেছে, ক্যাম্পাসের দক্ষিণ প্রান্তে আরএস ২২২২ দাগে প্রায় ৭১ শতাংশ জমি রয়েছে। সম্প্রতি ওই অংশে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের কাজ শুরু হলে একটি মহল সেখানে গিয়ে শ্রমিকদের কাজে বাধা দেয়। পরে জমির একটি অংশে বালু ফেলে জমিটি দখলের চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। জমিটি ওয়াকফ এস্টেটের অন্তর্ভুক্ত, একই সঙ্গে প্রত্নতত্ত্ব সম্পদ হিসেবে সরকারি গেজেটেও আছে। উপমহাদেশের নারী নবাব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানী জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের জন্য প্রায় ২৯৭ একর জমি ওয়াকফ করে দিয়েছিলেন। সময়ের সঙ্গে ওই ওয়াকফ সম্পত্তির একটি বড় অংশ বিভিন্নভাবে হাতবদল হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ওয়াকফ প্রশাসন ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের কার্যকর নজরদারির অভাবে দীর্ঘদিন ধরে এসব সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ তৈরি হয়েছে। তাদের দাবি, দ্রুত জমির সীমানা নির্ধারণ করে সরকারি নথিপত্র যাচাই করা এবং সম্ভাব্য দখল ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

ফখরুল ইসলাম নামের এক শিক্ষক আশঙ্কা জানিয়ে বলেন, জমিটি বেদখল হয়ে গেলে ভবিষ্যতে কলেজের অবকাঠামো সম্প্রসারণের পরিকল্পনা বাধাগ্রস্ত হতে পারে। পাশাপাশি ঐতিহাসিক এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সীমানা ও সম্পত্তির নিরাপত্তা নিয়েও জটিলতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে কলেজের জমিতে বালু ফেলে দখল ও বিক্রির চেষ্টার অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত নাজমা আক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এশিয়া পোস্টকে বলেন, এখন কথা বলতে পারব না, রাতে কথা হবে।

কলেজের অধ্যক্ষ মনির আহমেদ এশিয়া পোস্টকে বলেন, আমরা প্রশাসনকে জানিয়েছি। তারা ব্যবস্থা নেবে।