দিল্লির হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে কুমিল্লার যুবকের মৃত্যু, দগ্ধ বোন-ভগ্নিপতি

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির অভিজাত এলাকা মালভিয়া নগরের একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছেন। এ ঘটনায় তার ছোট বোন ও ভগ্নিপতি গুরুতর দগ্ধ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
মৃত যুবকের নাম নূরুল আমিন সোহাগ (৪০)। তিনি কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার চিওড়া ইউনিয়নের সাঙ্গীশ্বর গ্রামের বাসিন্দা ও আব্দুস সোবহানের ছেলে।
শুক্রবার (৫ জুন) সকালে এশিয়া পোস্টকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন তার চাচাতো ভাই হুমায়ুন কবির পাটোয়ারী।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, চিকিৎসার উদ্দেশ্যে সোহাগ তার ছোট বোন ও ভগ্নিপতিকে নিয়ে সম্প্রতি ভারতের নয়াদিল্লিতে যান। সেখানে তারা মালভিয়া নগরের হাউস রানি এলাকার বেড অ্যান্ড ব্রেকফাস্ট নামের পাঁচতলা আবাসিক হোটেলে অবস্থান করছিলেন।
গত বুধবার সকালে হোটেলটিতে হঠাৎ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সিলিন্ডার গ্যাস বিস্ফোরণের ফলে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়লে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আগুনে দগ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই নূরুল আমিন সোহাগের মৃত্যু হয়।
এদিকে, অগ্নিকাণ্ডে সোহাগের ছোট বোন ও ভগ্নিপতিও মারাত্মকভাবে দগ্ধ হন। তাদের উদ্ধার করে দ্রুত দিল্লির ম্যাক্স হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তারা আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানান পরিবার।
মৃতের চাচাতো ভাই হুমায়ুন কবির পাটোয়ার জানান, চিকিৎসার জন্য ভারতে গিয়ে এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন সোহাগ। পরিবারের সদস্যরা বর্তমানে গভীর শোকাহত এবং মরদেহ দেশে আনার প্রক্রিয়া চলছে।
এ বিষয়ে চৌদ্দগ্রাম উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহাদাৎ হোসেন বলেন, পরিবারের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ হয়েছে। যত ধরনের সহযোগিতার প্রয়োজন তার আশ্বাস আমরা দিয়েছি। আর প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় লাশ আনার বিষয়ে কাজ করছে।
উল্লেখ্য, দিল্লির ওই হোটেলে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে মোট ২১ জনের প্রাণহানি হয়েছে।



