কাঠের পাটাতন দিয়ে পার হতে হয় সেতু

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার ভিতরবন্দ ইউনিয়নের মাদাইখাল গ্রামে কচুয়ার খাল পার হওয়ার জন্য সেতুটিতে উঠতে হয় কাঠ দিয়ে বানানো অস্থায়ী সেতু দিয়ে। নয় বছর আগে বন্যায় সেতুটির মাঝখানে ভেঙে যায়।
২০১২ সালে ৪০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৮ ফুট প্রস্থের সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছিল। ২০১৭ সালের ভয়াবহ বন্যায় তা ভেঙে যায়। পরে সেতুটির ওপরে কাঠের পাটাতন দিয়ে আরেকটি সেতু বানিয়ে চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়। সেটিও এখন প্রায় অনুপযোগী। ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন পার হচ্ছেন প্রায় ২০ হাজার মানুষ।
এই সেতুতে চলাচলে নির্ভরশীল নাগেশ্বরী উপজেলার ভিতরবন্দ ইউনিয়নের মাদাইখাল, বড়ভিটা, জামতলা, বিলাতিরভিটা, কচুয়ারপাড়সহ অন্তত ১০টি গ্রামের বাসিন্দারা। পাশাপাশি কালিগঞ্জ ও কেদার ইউনিয়নের মানুষও প্রতিদিন এই ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো পেরিয়ে স্কুল, হাটবাজার, হাসপাতাল ও কর্মস্থলে যাতায়াত করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নয় বছরেও ভাঙা সেতুটির স্থলে নতুন সেতুটি নির্মাণে উদ্যোগ দেখা যায়নি। জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আশ্বাস মিললেও বাস্তবায়নের দেখা নেই। প্রতিদিন আতঙ্ক নিয়ে চলতে হচ্ছে তাদের।
স্থানীয় আজাহার আলী বলেন, সেতুটি ভেঙে পড়ে আছে। আমরা কাঠের পাটাতন বানিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছি। যে কোনো নির্বাচন এলে সবাই সেতুটি করে দিতে চায়, কিন্তু নির্বাচন শেষ হলে কারও দেখা মেলে না।
কচুয়ার পাড় এলাকার রহিমা বেগম বলেন, সেতুটি দিয়ে যেতে খুব ভয় লাগে। যদি পা পিছলে পড়ে যাই। ঝুঁকি নিয়ে চলি।
নাগেশ্বরী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোফাখ্খারুল ইসলাম বলেন, খালের গভীরতা ও দৈর্ঘ্য-প্রস্থের সঠিক পরিমাপ অনুযায়ী সেতুটি নির্মাণ না হওয়ায় বন্যার পানির তোড়ে এটি ভেঙে পড়ে। এখানে ভাঙা ব্রিজের স্থলে গার্ডার ব্রিজ নির্মাণ করা হবে।