চাঁদার দাবিতে বিয়েবাড়িতে কিশোর গ্যাংয়ের হামলা, আহত ৩

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় বাগানবাড়ি ইউনিয়নের রায়েরকান্দি গ্রামের নমপাড়ায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের এক বিয়ের অনুষ্ঠানে চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে কিশোর গ্যাংয়ের হামলার ঘটনা ঘটেছে।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিকালে মতলব উত্তর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) প্রদীপ মন্ডল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এতে বরের বাবা, ভাই ও জ্যাঠাসহ তিনজন আহত হয়েছেন।
আহতরা হলেন—ত্রিনাথ বিশ্বাস (৩২), বাবুলাল বিশ্বাস (৬০) ও বৃজন রানী (৪৫)।
স্থানীয়রা জানান, রায়েরকান্দি গ্রামের জীবন চন্দ্র দাসের বাড়িতে বাবু লাল বিশ্বাসের ছেলে সেম্বু নাথের বিয়ের অনুষ্ঠান চলছিল। এ সময় পাশের এলাকার নবীর হোসেনের ছেলে মহনের নেতৃত্বে আল আমিনের ছেলে আরমান, বারেক বকাউলের ছেলে আবির হোসেন ও জিসানসহ কয়েকজন অনুষ্ঠানে এসে প্রথমে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। পরে তারা ৩০ হাজার টাকা চায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে আয়োজক পক্ষ তিন হাজার টাকা দিলেও তারা তাতে সন্তুষ্ট হয়নি। একপর্যায়ে তারা হামলা চালিয়ে বরের বাবা বাবু লাল বিশ্বাস ও ভাই ত্রিনাদ বিশ্বাসকে মারধর করে টেবিল-চেয়ার ভাঙচুর ও আশপাশের বাড়িঘরে হামলা করে। খবর পেয়ে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতরা মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
আহত ত্রিনাথ বিশ্বাস বলেন, আমরা প্রবাসে থাকি। ভাইয়ের বিয়েতে দেশে এসেছি। বৃহস্পতিবার রাতে বাড়িতে অনুষ্ঠান চলছিল, আমরা কেরাম খেলছিলাম। তখন কিশোর গ্যাং এসে হামলা চালায়। আমার গলার স্বর্ণের চেইন এবং ছোট ভাইয়ের গলার চেইন ছিনিয়ে নেয়। হামলায় আমার মাথা ফেটে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দা রঘুনাথ বিশ্বাস বলেন, বিয়েবাড়িতে এ ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনায় আমরা আতঙ্কে আছি। প্রশাসনের কাছে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি জানাই।
স্থানীয় ইউপি সদস্য সেলিম মোল্লা বলেন, ঘটনার সময় আমরা তারাবির নামাজে ছিলাম। খবর পেয়ে পুলিশকে জানাই। পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আমিও পরে ঘটনাস্থলে গিয়েছি। ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনা না ঘটে সে বিষয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
মতলব উত্তর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) প্রদীপ মন্ডল বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ধরনের চাঁদাবাজি বা সহিংসতার ঘটনায় জড়িতদের ছাড় দেওয়া হবে না।