Advertisement

কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা

এশিয়া পোস্ট নিউজ, নেত্রকোনা
কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা
কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়া। ছবি: সংগৃহীত

সপ্তম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়ার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রাতে ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

এর আগে সোমবার (৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় নেত্রকোনা সদর উপজেলার দক্ষিণ বিশিউড়া ইউনিয়নের নন্দুরা বাজারে ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি কার্যালয়ে ওই স্কুলছাত্রীকে (১৫) ধর্ষণের অভিযোগে এক সালিশ বৈঠক বসে।

ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ফজলুর রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি নেতা আব্দুল হাই মুন্সি, আতাউর রহমান, স্থানীয় জামায়াত নেতা জয়নাল আবেদীন ও দৌলত মিয়াসহ এলাকাবাসী বিচারে রিপন মিয়াকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা এবং এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেন। জরিমানার অর্থ পরিশোধের জন্য সাত দিনের সময়সীমাও নির্ধারণ করে দেওয়া হয়।

তবে বিএনপি কার্যালয়ে ধর্ষণের মতো ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগ সালিশ বৈঠকে নিষ্পত্তির চেষ্টা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন মহল। তারা এটিকে আইন হাতে তুলে নেওয়ার শামিল বলে দাবি করেছেন।

অভিযুক্ত রিপন মিয়া নেত্রকোনা সদর উপজেলার দক্ষিণ বিশিউড়া গ্রামের মঞ্জিল মিয়ার ছেলে। পেশায় কাঠমিস্ত্রি হলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে তার পরিচিতি রয়েছে। সম্প্রতি তিনি পাশের নন্দুরা গ্রামে জমি কিনে বাড়ি বানিয়ে পরিবার নিয়ে বসবাস শুরু করেন। ভুক্তভোগী কিশোরী রিপন মিয়ার প্রতিবেশী।

এলাকাবাসী ও মেয়েটির পরিবারের ভাষ্য, গত কয়েক মাস ধরে রিপন মিয়া ওই কিশোরীর সঙ্গে যোগাযোগ রেখে আসছিলেন। একপর্যায়ে আর্থিক প্রলোভন দেখিয়ে তিনি প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন এবং প্রায়ই মেয়েটিকে উত্ত্যক্ত করতেন। গত বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে বাড়ির উঠানে রান্নার সময় কৌশলে তাকে বাড়ির পেছনে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ। পরে স্থানীয় দুজন ঘটনাটি দেখে ফেললে তাদের ৫০ হাজার টাকা দিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলেও জানা গেছে।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সালিশের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, রিপন মিয়া উপস্থিত লোকজনের সামনে বলছেন, আমার দোষ থাকলেও আছে, না থাকলেও আমি সবার সিদ্ধান্ত মেনে নেব। ভিডিওটি প্রকাশ পাওয়ার পর সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা জানান, ধর্ষণের মতো গুরুতর অপরাধের বিচার গ্রাম্য সালিশে নিষ্পত্তি করা মোটেও ঠিক হয়নি। এ ধরনের অপরাধের বিচার আদালতেই হওয়া উচিত, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন ঘটনা ঘটানোর সাহস না পায়।

যোগাযোগ করা হলে ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ফজলুর রহমান মুঠোফোনে জানান, মেয়েটি অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারের। টাকার লোভ দেখিয়ে রিপন তার সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলে। ঘটনাটি জোরপূর্বক ধর্ষণ নয় বলেই আমরা জেনেছি। উপরন্তু পরিবারের মামলা চালানোর মতো আর্থিক সামর্থ্যও নেই। তাই এলাকাবাসী মিলে সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা করেছে।

ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত রিপন মিয়া পলাতক থাকায় তার কোনো বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তার মুঠোফোনটি বন্ধ থাকায় কল কিংবা হোয়াটসঅ্যাপেও যোগাযোগ করা যায়নি।

তবে রিপন মিয়ার স্ত্রী চম্পা আক্তারের দাবি, ভুক্তভোগী মেয়েটি প্রায়ই তাদের বাসায় যাতায়াত করত। কিন্তু ধর্ষণের মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি। এলাকার কিছু লোক হিংসাত্মক মনোভাব থেকে তাকে অপবাদ দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে।

নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল খায়ের বলেন, মঙ্গলবার রাতে ভুক্তভোগীর বাবা মামলা দায়ের করেছেন। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।