অবৈধভাবে ১৩ টন রাবার পরিবহন, চেকপোস্টে ট্রাক আটক

বান্দরবানে প্রয়োজনীয় বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই প্রায় ১৩ টন রাবার পরিবহনের অভিযোগে একটি ট্রাক আটক করেছে সেনাবাহিনী।
বুধবার (১২ আগস্ট) বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে জানাজানি হয়।
এর আগে, মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রাতে বান্দরবান-চট্টগ্রাম সড়কের রেইছা আর্মি চেকপোস্টে ট্রাকটি আটক করা হয়।
আটক ট্রাকটির নম্বর চট্টমেট্রো-ট-১১-৩৪৬৭। এতে ১৩ হাজার ২৪৩ কেজি কাপলাম্প রাবার ছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। পরিবহন করা রাবারের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১১ লাখ টাকা বলে দাবি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার বান্দরবান শহরের সাঙ্গু সেতু এলাকায় রাবারবোঝাই ট্রাকটি চলাচলের সময় কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি সেটি থামিয়ে রাবার পরিবহনের বৈধ কাগজপত্র দেখতে চান। এ সময় ট্রাকসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে তাদের কথা-কাটাকাটি ও অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ ওঠে। পরে বিষয়টি সাংবাদিক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরে আসে। তাদের সহযোগিতায় ট্রাকটি রেইছা আর্মি চেকপোস্টে নেওয়া হয়। সেখানে ট্রাকে থাকা রাবারের কাগজপত্র যাচাই করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করতে বান্দরবান কাস্টমস কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক যাচাইয়ে রাবার পরিবহনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় বৈধ কাগজপত্র না থাকার বিষয়টি উঠে আসে বলে জানা গেছে। পরে ট্রাকটি রাবারসহ আটক করা হয় এবং আইনগত প্রক্রিয়া শুরুর উদ্যোগ নেওয়া হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা রতন বলেন, ‘রাবার নিয়ে কোটি কোটি টাকার ব্যবসা হচ্ছে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ভ্যাট-কর পরিশোধ না করে ব্যবসা করা হলে তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত বিষয়টি সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া।’
এদিকে বান্দরবান কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট সার্কেলের চলতি বছরের ২২ এপ্রিল একটি চিঠির তথ্যও সামনে এসেছে। চিঠিতে ‘আহাম্মদ উল্লাহ রাবার’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের মূল্য সংযোজন কর (মূসক) নিবন্ধন, হিসাব সংরক্ষণ, কর চালানপত্র ইস্যু, রিটার্ন দাখিল এবং প্রযোজ্য মূসক পরিশোধের বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়। মূসক নিবন্ধন ও সরকারি রাজস্ব পরিশোধ ছাড়া ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে আইনগত বাধ্যবাধকতার কথাও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বান্দরবান কাস্টমসের কাস্টমস কর্মকর্তা নুর মোহাম্মদ বলেন, ট্রাকে করে অবৈধভাবে রাবার পরিবহনের সময় রেইছা চেকপোস্টে সেনাবাহিনী ট্রাকটি আটক করেছে বলে আমরা খবর পেয়েছি। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে ট্রাকটি মালামালসহ আমাদের কাছে হস্তান্তর করা হলে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
.png)


