হট্টগোল করে আদালত বর্জন আইনজীবীদের

বরিশালে বিচারকার্য চলাকালে আদালতে ঢুকে হট্টগোলের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বরিশালের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ ঘটনা ঘটে।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য তালুকদার মোহাম্মদ ইউনুসের জামিন দেওয়াকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে থানা পুলিশ এবং সিআইডি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
এর আগে মঙ্গলবার সকাল থেকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতাদের জামিন মঞ্জুরের প্রতিবাদে বরিশাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ও অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের কার্যক্রম বর্জন করে জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্যদের একটি অংশ। তারা আদালত বর্জন করে বিক্ষোভ করেন। এতে দুর্ভোগের শিকার হন সাধারণ বিচারপ্রার্থীরা।
দিনভর আদালত বর্জনের পর বিকেলে অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। ঠিক সেই মুহূর্তে আদালতে ঢুকে হট্টগোল শুরু করেন আইনজীবীরা। খবর পেয়ে কোতয়ালি মডেল থানা পুলিশ এবং সিআইডি টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে আলামত সংগ্রহ করে।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন উল ইসলাম বলেন, আইনজীবীরা একটা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন—এমন খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে এসেছি। তবে ঘটনাস্থলে কোর্ট পুলিশ ছিল, তারা বলতে পারবেন ভেতরে কিছু ঘটেছে কি না। তা ছাড়া পুলিশের বিশেষজ্ঞ টিম এসে আলামত সংগ্রহ করেছে।
নারী ও শিশু নির্যাতন আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) সাঈদ চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, আদালতে কোনো ভাঙচুর হয়নি। একটু হট্টগোল, চিৎকার-চেঁচামেচি হয়েছে।
এর আগে বরিশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের এপিপি হাফিজ আহমেদ বাবলু বলেন, যেখানে বিস্ফোরক মামলায় মানুষজনকে জেলা জজ আদালত থেকে জামিন নিতে হচ্ছে, সেখানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাদের নিম্ন আদালত থেকেই জামিন দেওয়া হচ্ছে। গতকাল (২৩ ফেব্রুয়ারি) জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তালুকদার মোহাম্মদ ইউনুস আদালতে আত্মসমর্পণ করলে জামিন পেয়ে চলে যান।
বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এসএম সাদিকুর রহমান লিংকন বলেন, রাষ্ট্রপক্ষের তীব্র বিরোধিতা সত্যেও বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তালুকদার মোহাম্মদ ইউনুসকে জামিন দিয়েছেন অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। মামলায় জামিন অযোগ্য ধারা থাকা সত্যেও জামিন দেওয়া হয়েছে। আমরা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য আদালত বর্জন করেছি।
এদিকে আইনজীবীরা আদালত বর্জন করায় দুর্ভোগের শিকার হন বিচারপ্রার্থীরা। সংকট নিরসনে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।