logo

চাহিদার তুলনায় কম বিদ্যুৎ সরবরাহে মৌলভীবাজারে তীব্র লোডশেডিং

চাহিদার তুলনায় কম বিদ্যুৎ সরবরাহে মৌলভীবাজারে তীব্র লোডশেডিং

একদিকে তীব্র দাবদাহে জনজীবন ওষ্ঠাগত, অন্যদিকে বিদ্যুতের অস্বাভাবিক ভেলকিবাজিতে দিশাহারা হয়ে পড়েছে মৌলভীবাজার জেলার মানুষজন।

জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার পতনঊষার উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের পরীক্ষার্থী শাহিদ আহমদের দিনরাত কাটছে এখন দুঃস্বপ্নের মতো। ২১ এপ্রিল পরীক্ষা শুরু, অথচ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১৬ ঘণ্টাই তার এলাকায় বিদ্যুৎ থাকছে না। আলাপকালে শাহিদ আহমেদ বলেন, এই সময়ে এক মুহূর্ত নষ্ট করার সুযোগ নেই। কিন্তু যখনই পড়তে বসি, তখনই লোডশেডিং। বাধ্য হয়ে টর্চলাইটের আলোয় পড়ছি, কিন্তু গরমে অস্থির হয়ে বেশিক্ষণ মনোযোগ দেওয়া যাচ্ছে না।

শ্রীমঙ্গলের রাজু আহমেদ। এ বছর তিনিও এসএসসি পরীক্ষা দেবেন। মোবাইল ফোনে আলাপকালে তিনি বলেন, পরীক্ষার আর ৩-৪ দিন বাকি, অথচ বিদ্যুতের জ্বালায় ঠিকমতো পড়াশোনা করা যাচ্ছে না। একদিকে তীব্র গরম, অপরদিকে লোডশেডিং প্রতিনিয়ত। আমাদের এবারের পরীক্ষার রেজাল্ট কী হবে, সেটা নিয়ে চিন্তা হচ্ছে। শুধু শাহিদ কিংবা রাজুই নয়, একই সংকটে আছে জেলার হাজার হাজার শিক্ষার্থী ও এসএসসি পরীক্ষার্থী।

মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির তথ্যমতে, জেলায় দৈনিক বিদ্যুতের চাহিদা ৫০ মেগাওয়াট। কিন্তু গ্রিড থেকে সরবরাহ করা হচ্ছে মাত্র ৪৫ শতাংশ (প্রায় ২০-২২ মেগাওয়াট)। চাহিদার অর্ধেকেরও কম সরবরাহ পাওয়ায় বাধ্য হয়েই পর্যায়ক্রমে দীর্ঘসময় লোডশেডিং করতে হয়। ফলে জেলার প্রায় ৫ লাখ গ্রাহক দিনরাতে গড়ে ১২ থেকে ১৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন থাকছেন।

বিদ্যুতের এই আসা-যাওয়ার খেলায় কেবল পরীক্ষার্থীরাই সমস্যায় নয়, মুখ থুবড়ে পড়ছে ব্যবসা-বাণিজ্য ও স্বাস্থ্যসেবাও। শমশেরনগর পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পরিচালক নজরুল ইসলাম খান এশিয়া পোস্টকে বলেন, ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে আমাদের দামি ডিজিটাল মেশিনারিজ নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

শহরের ব্যবসায়ী কামরুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দোকানে কারেন্ট ছাড়া কাজ চলে না। ৫-৬ জন কর্মচারীকে বসিয়ে বেতন দিতে হচ্ছে। কাজ নেই, কিন্তু খরচ ঠিকই আছে।

লোডশেডিংয়ের ভয়াবহতার কথা স্বীকার করেছেন মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী সুজিত কুমার বিশ্বাস।

তিনি বলেন, মানুষের বিদ্যুতের চাহিদা আগের তুলনায় বহুগুণ বেড়েছে। কিন্তু আমরা চাহিদার বিপরীতে মাত্র ৪৫ শতাংশ বিদ্যুৎ পাচ্ছি। আমাদের কিছুই করার নেই। পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হলে এবং সরবরাহ বাড়লে এই সংকট থেকে মুক্তি মিলতে পারে।