সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারে সিএমপির ‘এস ড্রাইভ’ অভিযান

পুলিশের পাহারার মধ্যেও ব্যবসায়ীর বাড়িতে সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের গুলির ঘটনার পর নগরজুড়ে একযোগে অভিযান শুরু করে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)।
রোববার (২ মার্চ) রাত সাড়ে ১১টার দিকে জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকে ‘সিমালটেনিয়াসলি ড্রাইভ’ (এস ড্রাইভ) নামের এই বিশেষ অভিযানের ঘোষণা দেন সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ওয়াহিদুল হক চৌধুরী। এরপরই আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযান শুরু করে সিএমপি।
তিনি বলেন, মেট্রোপলিটন এলাকায় সিএমপির সব পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সদস্যদের নিয়ে একযোগে অভিযান পরিচালনা করা হবে। পুলিশের ভাষায় এটিই ‘এস ড্রাইভ’। কোনো একটি আস্তানায় হানা দিলে যাতে অন্য অপরাধীরা সরে যেতে না পারে, সে জন্য একই সময়ে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হবে। ওসি থেকে অতিরিক্ত কমিশনার পর্যন্ত সব কর্মকর্তা এতে অংশ নেবেন।
এস ড্রাইভের বিধান প্রসঙ্গে তিনি জানান, প্রবিধানের ৩৭৮(ঘ) ধারা অনুযায়ী ‘সিমুলটানিয়াসলি ড্রাইভ’ অর্থ যুগপৎ অভিযান করা হবে। রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ পলাতকদের বিষয়ে পর্যায়ভিত্তিক অনুসন্ধান, অনুসন্ধানের তারিখ ও উপস্থিত দুজন সাক্ষীর নাম নথিভুক্ত করার বিধান রয়েছে। যেসব স্থানে অপরাধীরা অবস্থান করছে বলে ধারণা করা হয়, সেখানে অনিয়মিত বিরতিতে অভিযান পরিচালনাই এস ড্রাইভ।
শনিবার সকালে স্মার্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমানের বাসায় আধুনিক ও স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র দিয়ে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনার জের ধরে এই অভিযানে নেমেছে সিএমপি। এ ঘটনার পর থেকেই অপরাধীদের ধরতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়।
পুলিশ কমিশনার ওয়াহিদুল হক চৌধুরী বলেন, একটি ঘটনায় নগরবাসীর মনে কিছুটা নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। সেই আশঙ্কা দূর করতেই এই অভিযান। অপরাধীদের ইতোমধ্যে শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাদের সম্ভাব্য আস্তানায় অভিযান চলছে। পুলিশের কাছে তথ্য আছে, তারা চট্টগ্রাম শহরের বাইরে পাহাড়ি এলাকায় অবস্থান করছে। সেখানেও অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। নগরের প্রতিটি প্রবেশমুখে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। অস্ত্র বাইরে থেকে আনা হয়নি, কারণ শহরের সব প্রবেশমুখে তল্লাশিচৌকি আছে। শহরের কোথাও লুকিয়ে রাখা হয়েছে। এমন একাধিক স্পট শনাক্ত করে একযোগে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
আসামিদের পরিচয় ও ব্যবহৃত অস্ত্রের উৎস সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তদন্তের স্বার্থে এখনই নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হচ্ছে না। অস্ত্র থানার লুট হওয়া নাকি পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা, সে বিষয়ে পুলিশ নিশ্চিত নয়। তবে ধারণা করা হচ্ছে, অস্ত্রগুলো পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের কাছ থেকে কেনা হতে পারে।
নগর পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, ১০টি দলে ভাগ হয়ে নগরের ১০টি এলাকায় অভিযান শুরু হয়েছে। সিএমপি জানিয়েছে, অপরাধীদের গ্রেপ্তার এবং অস্ত্র উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত ‘এস ড্রাইভ’ চলবে। পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা দলও মাঠে সক্রিয় রয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়সাল আহমেদ এবং ডিসি (দক্ষিণ) হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূঁইয়া।