logo

বাড়িতে ঢুকে গুলি, ১১ দিন পর মারা গেলেন জামায়াত কর্মী

বাড়িতে ঢুকে গুলি, ১১ দিন পর মারা গেলেন জামায়াত কর্মী
আব্দুল গনি। ছবি : পারিবারিক সূত্রে পাওয়া

পাবনা সদর উপজেলায় গুলি ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আহত জামায়াত কর্মী আব্দুল গনি (৪৫) হামলার ১১ দিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

নিহত আব্দুল গনি পাবনা সদর উপজেলার ভাঁড়ারা ইউনিয়নের নলদাহ গ্রামের মৃত খোদা বক্সের ছেলে। তিনি জামায়াতের সক্রিয় কর্মী ছিলেন বলে দলটির স্থানীয় নেতারা জানিয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে আব্দুল গনি নিজ বাড়িতে ছিলেন। এ সময় একদল ব্যক্তি তার বাড়িতে ঢুকে তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তাকে গুরুতর আহত করা হয়। হামলাকারীরা পরে সেখান থেকে চলে যায়। স্বজন ও স্থানীয় লোকজন আহত আব্দুল গনিকে উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে ১১ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর রোববার সকালে তার মৃত্যু হয়।

ভাঁড়ারা ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি রবিউল ইসলাম বলেন, আব্দুল গনি জামায়াতের সক্রিয় কর্মী ছিলেন। সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তার সক্রিয় ভূমিকার কারণে তিনি হামলার শিকার হয়েছেন বলে তারা মনে করছেন। আব্দুল গনিকে হত্যার ঘটনায় ভাঁড়ারা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা আবু সাঈদ খান এবং তার অনুসারীরা জড়িত। তার দাবি, ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় তারা আব্দুল গনির বাড়িতে গিয়ে গুলি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালান।

তবে আবু সাঈদ খান ও তার অনুসারীদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। ফলে তাদের বিরুদ্ধে করা অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম আব্দুল গনির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আব্দুল গনির মৃত্যুর বিষয়টি আমরা জেনেছি। এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

আব্দুল গনির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ভাঁড়ারা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় আতঙ্ক ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। এদিকে আব্দুল গনির মৃত্যুর ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন পাবনা জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা জহুরুল ইসলাম খান, প্রিন্সিপাল ইকবাল হোসাইন ও সেক্রেটারি অধ্যাপক আব্দুল গাফফার খান।

এক বিবৃতিতে তারা হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।

২০২৪ সালের ৪ আগস্ট পাবনা শহরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মসূচিতে গুলিতে জাহিদুল ইসলাম ও মাহবুব হাসান নিলয় নিহত হন। ওই ঘটনায় করা মামলায় ভাঁড়ারা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবু সাঈদ খানসহ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের আসামি করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে ওই মামলায় ১৩৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিলের খবরও প্রকাশিত হয়েছে।