হাজার কোটি টাকার কেবল সেতু বদলে দেবে দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতি

পায়রা সমুদ্রবন্দরের বাণিজ্যিক কার্যক্রমে নতুন গতি আনতে যাচ্ছে আন্ধারমানিক নদের ওপর নির্মাণাধীন চার লেনের কেবল সেতু। বন্দরের সঙ্গে মূল সড়কের যোগাযোগ আরও সহজ করতেই সেতুটি নির্মাণ করা হচ্ছে। সেতুটি নির্মাণ হলে পণ্য পরিবহনে সময় ও খরচ কমার পাশাপাশি দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে পায়রা বন্দরের ভূমিকা আরও সুদৃঢ় হবে বলে আশা সংশ্লিষ্টদের।
বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে ১১৮০ মিটার দীর্ঘ চার লেনের এই কেবল সেতু। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। চীনা প্রতিষ্ঠান ‘চায়না সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন করপোরেশন’ এবং ‘চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যুরো গ্রুপ লিমিটেড’ সেতুটির নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করছে। বর্তমানে কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে থাকায় উদ্বোধনের অপেক্ষায় দিন গুনছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তারা।

সেতুটির মূল অংশের দৈর্ঘ্য ৭৬০ দশমিক ২২ মিটার এবং প্রস্থ ২৩ দশমিক ২ মিটার। এর উচ্চতা ১৮ দশমিক ৩ মিটার। তিনটি স্প্যানের সমন্বয়ে নির্মিত মূল সেতুর সঙ্গে উত্তর প্রান্তে ৩২০ মিটার এবং দক্ষিণ প্রান্তে ৪৪০ মিটার দীর্ঘ সংযোগ সড়ক রয়েছে। সংযোগ অংশের প্রস্থ ২১ দশমিক ২ মিটার।
এদিকে সেতুর নির্মাণকাজ শেষ পর্যায়ে পৌঁছানোয় এটি স্থানীয় বাসিন্দা ও দর্শনার্থীদের আকর্ষণের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। প্রতিদিনই অনেকে নির্মাণস্থলের পাশের ছয় লেনের সড়কে জড়ো হয়ে সেতুর অগ্রগতি দেখছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম বলেন, এই অঞ্চলের মানুষ সেতুটির উদ্বোধনের অপেক্ষায় দিন গুনছেন। আমাদের এই এলাকা আগে অজপাড়াগাঁ ছিল। এখানে শিল্পকারখানা গড়ে উঠলে দক্ষিণ বাংলার মানুষ উপকৃত হবে। সেতুটি চালু হলে এ পথে অনেক যানবাহন চলাচল করবে।
বারেক হাং নামে আরেকজন বলেন, সেতুর কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। এটি চালু হলে আমাদের এলাকার বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান হবে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের আরও প্রসার ঘটবে। আমরা চাই, বন্দরের এই জেটি নির্মাণের পর পোর্টটি চালু হোক।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, সেতুটি চালু হলে পায়রা বন্দরের সঙ্গে ঢাকা ও দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সরাসরি সড়ক যোগাযোগের পথ সুগম হবে। এতে পণ্য পরিবহনে সময় ও ব্যয় কমার পাশাপাশি আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে গতি আসবে।
পটুয়াখালী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মো. কামাল হোসেন বলেন, পায়রা সমুদ্রবন্দরকে কেন্দ্র করে দক্ষিণাঞ্চলে ব্যবসা-বাণিজ্যের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। সেতুটি চালু হলে পণ্য পরিবহন সহজ হবে এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রমে গতি আসবে। পাশাপাশি নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠার সুযোগ তৈরি হবে।

বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) পটুয়াখালীর সহকারী মহাব্যবস্থাপক মো. আলমগীর সিকদারও মনে করেন, উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা শিল্পায়নের অন্যতম পূর্বশর্ত। পায়রা বন্দরের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ আরও কার্যকর হলে দক্ষিণাঞ্চলে শিল্পকারখানা স্থাপন ও বিনিয়োগের সম্ভাবনা বাড়বে।
পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (হারবার অ্যান্ড মেরিন) কমডোর জামাল চৌধুরী বলেন, বন্দরের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তা, শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও সরকারের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। বন্দরের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও যোগাযোগব্যবস্থার সম্প্রসারণের মাধ্যমে এর সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে।
