পুলিশের বিরুদ্ধে চার বস্তা গাঁজা গায়েবের অভিযোগ আসামির

কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার একটি মাদক মামলায় উদ্ধার করা গাঁজার প্রকৃত পরিমাণ গোপন, আলামত জব্দে অনিয়ম, জিজ্ঞাসাবাদের নামে হয়রানি এবং নিরপরাধ ব্যক্তিকে আসামি করার অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশের মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের আবেদন জানিয়েছেন মামলার দুই আসামি।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) পৃথক দুটি আবেদনে এ অভিযোগ তোলেন মামলার ১ নম্বর আসামি চৌদ্দগ্রাম উপজেলার আবদুল্লাহপুর এলাকার পিকআপচালক মিজান মিয়া এবং ২ নম্বর আসামি সদর দক্ষিণ উপজেলার মুড়াপাড়া এলাকার কলেজ শিক্ষার্থী ইকরান হোসেন।
মিজান মিয়ার আবেদনে বলা হয়, গত ২০ এপ্রিল কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার সোয়াগাজী বাজারের ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক সংলগ্ন একটি সিএনজি ফিলিং স্টেশনের সামনের সড়ক থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই সময় তার পিকআপে সাতটি বস্তায় মোট ১৪৪ কেজি গাঁজা ছিল। তবে অভিযোগ উঠেছে, পুলিশ ঘটনাস্থলেই চার বস্তায় থাকা প্রায় ৮৪ কেজি গাঁজা একটি সিএনজিতে তুলে অন্যত্র সরিয়ে নেয়। পরে মামলায় মাত্র ৬০ কেজি গাঁজা উদ্ধার দেখিয়ে আদালতে চালান দেওয়া হয়।
আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, মিজানকে ভাগলপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হলেও এজাহারে গ্রেপ্তারের স্থান হিসেবে চৌয়ারা বাজারের ফুলতলী এলাকা দেখানো হয়েছে। এ সময় উদ্ধার করা মাদকের সঠিক পরিমাণ, জব্দ তালিকা ও আলামত সংরক্ষণে অসঙ্গতি রয়েছে কি না—তা তদন্তের দাবি জানান তিনি। এ ছাড়া মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই হারুন ও এসআই (নিরস্ত্র) জনি কান্তি দে তাকে শিক্ষার্থী ইকরানের বিরুদ্ধে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে চাপ দেন এবং রাজি না হওয়ায় পুনরায় মাদক মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেন বলে অভিযোগ করা হয়।
অন্যদিকে কলেজ শিক্ষার্থী ইকরান হোসেন তার আবেদনে দাবি করেন, তিনি কোনোভাবেই মাদক ব্যবসা বা পরিবহনের সঙ্গে জড়িত নন এবং তার কাছ থেকে কোনো মাদক উদ্ধার করা হয়নি। তা সত্ত্বেও তাকে মামলার ২ নম্বর আসামি করা হয়েছে, যা তার শিক্ষাজীবন ও ভবিষ্যৎকে চরম হুমকির মুখে ফেলেছে।
এর আগে গত ১০ জুন বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিও বক্তব্যে মিজান স্বীকার করেছিলেন, পিকআপের ওই গাঁজা তারই ছিল। তবে ওই সময়েও তিনি অভিযোগ তোলেন, ১৪৪ কেজি গাঁজার মধ্যে ৮৪ কেজি পুলিশ গায়েব করে মাত্র ৬০ কেজি উদ্ধার দেখিয়েছে। ওই ভিডিও প্রকাশের পর ঘটনাটি ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার এসআই (নিরস্ত্র) জনি কান্তি দে বলেন, ‘আসামিরা তো নিজেদের বাঁচাতে কত কথাই বলবে। তারা অভিযোগ প্রমাণ করুক।’
এ বিষয়ে কুমিল্লার পুলিশ সুপার (এসপি) আনিসুজ্জামান বলেন, এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ইতোমধ্যে তদন্ত চলছে। তদন্তে সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
.png)

