গাঁজা সেবন দেখে ফেলায় মাদ্রাসাছাত্রকে হত্যার পর লাশে আগুন

গাজীপুরে মাদ্রাসাছাত্র মাহাবুব হোসেন রনি (১৪) হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন ছাব্বির আহম্মেদ (১৯) নামের এক তরুণ। তিনি জানিয়েছেন, গাঁজা সেবন করতে দেখে ফেলায় মাহাবুবকে শ্বাসরোধে হত্যা করে লাশে আগুন ধরিয়ে দেন।
হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছাব্বির আহম্মেদকে গ্রেপ্তারের পর শুক্রবার (৬ মার্চ) আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
নিহত মাহাবুল হোসেন রনি ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার দৌলতপুর গ্রামের সোহাস মিয়ার ছেলে। মাহাবুল খুরশীদিয়া মারকাযুল উলুম ক্বওমী মাদ্রাসা ও এতিমখানা মাদ্রাসার ছাত্র ছিল।
গ্রেপ্তার ছাব্বির আহম্মেদ ময়মনসিংহের ইশ্বরগঞ্জ থানার তুলন্দর গ্রামের আব্দুল বারেকের ছেলে। সে গাজীপুরের ভবানীপুর এলাকায় ভাড়া থাকে।
গাজীপুর পিবিআই পুলিশ জানায়, গাজীপুরের ভবানীপুর এলাকার খুরশিদিয়া মারকাজুল উলুম কওমী মাদ্রাসা ও এতিমখানার নাজেরা বিভাগের শিক্ষার্থী মাহাবুব ইসলাম রনি গত ২৭ ফেব্রুয়ারি রাতে তারাবির নামাজ পড়তে যায়। বাসায় ফেরার পথে নিখোঁজ হয়। পরদিন ২৮ ফেব্রুয়ারি বেলা ১১টার দিকে স্থানীয়রা একই এলাকার একটি জঙ্গলের ভেতর আগুনে পোড়া অবস্থায় এক কিশোরের মরদেহ দেখতে পায়। পরে পরিবারের সদস্যরা মরদেহটি মাহাবুব বলে শনাক্ত করেন।
এ ঘটনায় নিহতের দাদা তারা মিয়া জয়দেবপুর থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলাটি প্রথমে থানা পুলিশ তদন্ত করলেও পরে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) গাজীপুর জেলা তদন্তভার গ্রহণ করে।
পিবিআই জানায়, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত ৫ মার্চ রাতে জয়দেবপুরের ভবানীপুর এলাকা থেকে ছাব্বির আহম্মেদকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে সে হত্যাকাণ্ডে নিজের জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে এবং আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, ঘটনার দিন রাতে ছাব্বির জঙ্গলের ভেতরে গাঁজা সেবন করছিল। এ সময় মাদ্রাসাছাত্র মাহাবুব সেখানে এসে তাকে দেখে ফেলে এবং বিষয়টি অন্যদের জানিয়ে দেওয়ার কথা বলে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ছাব্বির তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়ে পেছন দিক থেকে গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধে হত্যা করে। পরে ঘটনা গোপন করতে মরদেহে আগুন লাগিয়ে পালিয়ে যায়।
এ বিষয়ে পিবিআই গাজীপুরের পুলিশ সুপার মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি, স্থানীয় সোর্স ও পেশাদার তদন্তের মাধ্যমে জড়িত ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে।