৫ লাখ টাকার ভুয়া চালানে আদালত থেকে মুক্তি, পাওনা ফেরত পাননি বাদী

চেক জালিয়াতির মামলায় ছয় মাসের কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা ফেরতের আদেশের পর আদালতে পাঁচ লাখ টাকা জমার একটি ট্রেজারি চালান দাখিল করেছিলেন এক কলেজ প্রভাষক। তবে যাচাইয়ে চালানটি ভুয়া বলে দাবি করেছে সংশ্লিষ্ট সোনালী ব্যাংক শাখা। এ ঘটনায় মামলার বাদী তার পাওনা টাকা ফেরত পাননি।
অভিযুক্ত প্রভাষক মাহবুবুল আলম পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার কিসমতপুর দেলোয়ার হোসেন ডিগ্রি কলেজের শিক্ষক। তার বিরুদ্ধে চেক জালিয়াতির মামলাটি করেন বরগুনা পৌর শহরের শহীদ স্মৃতি সড়ক এলাকার বাসিন্দা শাহজালাল বিল্লাহ।
মামলা সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর আদালত মাহবুবুল আলমকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেন। একই সঙ্গে বাদীকে ১০ লাখ টাকা ফেরত দেওয়ার আদেশ দেওয়া হয়। রায়ের পর থেকে পলাতক থাকা মাহবুবুল আলম বরগুনা সোনালী ব্যাংকের কোর্ট বিল্ডিং শাখার সিল ও স্বাক্ষরযুক্ত পাঁচ লাখ টাকা জমার একটি চালানের কপি আদালতে দাখিল করেন। তবে চালানটি যাচাই করতে গিয়ে জালিয়াতির বিষয়টি সামনে আসে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

সোনালী ব্যাংক পিএলসি, বরগুনা কোর্ট বিল্ডিং শাখার প্রধান কেফায়েত উল্লাহ বলেন, চালানে ব্যবহৃত সিল ও স্বাক্ষর—কোনোটিই তাদের নয়। চালানটি ভুয়া।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, পাঁচ লাখ টাকার ওই চালানের কপিটি সত্যায়ন করেছিলেন আসামির আইনজীবী গোলাম মোস্তফা সুমন। তবে তার দাবি, তিনিও প্রতারণার শিকার হয়েছেন।
আইনজীবী গোলাম মোস্তফা সুমন জানান, একজন কলেজ শিক্ষক চালানের কপি নিয়ে এসে আমাকে বলেছেন, তিনি ব্যাংকে টাকা জমা দিয়েছেন। তিনি একজন শিক্ষক হওয়ায় তার কথা অবিশ্বাস করার কারণ দেখিনি। কিন্তু মাহবুবুল আলম প্রতারণা করেছেন। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে পৃথক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
মামলার বাদী শাহজালাল বিল্লাহ জানান, দফায় দফায় জালিয়াতির শিকার হয়ে তিনি অসহায় হয়ে পড়েছেন। জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি কীভাবে তার পাওনা টাকা ফেরত পাওয়া যায়, সে বিষয়েও আদালতের কার্যকর পদক্ষেপ চান তিনি।
বরগুনা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর ও জেলা আইনজীবী সমিতির আহ্বায়ক নুরুল আমিন বলেন, ভুয়া চালানের বিষয়টি আমলে নিয়ে আদালত তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। এ ছাড়া মাহবুবুল আলমের বিরুদ্ধে পুনরায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। যিনি অপরাধ করেছেন, তার বিচার অবশ্যই হবে।
বরগুনা জেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা কামরুল আহসান বলেন, জালিয়াতি এড়াতে ব্যাংক চালানের অর্থ অনলাইনে জমা দেওয়ার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এতে চালান জালিয়াতির সুযোগ কমবে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে একাধিকবার কলেজে গিয়েও এবং ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও অভিযুক্ত প্রভাষক মাহবুবুল আলমের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
