logo

বাঁশের সাঁকোটি ১০ গ্রামের ভরসা 

বাঁশের সাঁকোটি ১০ গ্রামের ভরসা 

বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার সুন্দরবন ইউনিয়নে নির্মিত একটি সেতু পাঁচ বছর ধরে কার্যত অচল হয়ে পড়ে আছে। মূল কাঠামো শেষ হলেও দুপাশে সংযোগ সড়ক না থাকায় স্থানীয়রা বাধ্য হয়ে বাঁশের মই বেয়ে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করছেন। এতে প্রতিদিনই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সুন্দরবন ইউনিয়নের পাখিমারা খালের ওপর পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ৯০ মিটার দীর্ঘ সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০১৮ সালে এবং শেষ হয় ২০২১ সালে। প্রায় ৬ কোটি ৩২ লাখ টাকার বেশি ব্যয়ে নির্মিত এ সেতুর কাঠামো সম্পন্ন হলেও জমি অধিগ্রহণ জটিলতায় দুপাশের সংযোগ সড়কের কাজ আর শুরু হয়নি। ফলে সেতুটি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ে আছে।

স্থানীয়রা নিজেদের উদ্যোগে সেতুর দুই প্রান্তে বাঁশের মই স্থাপন করে কোনোভাবে চলাচলের ব্যবস্থা করেছেন। তবে এই ব্যবস্থা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। সেতুর এক পাশে রয়েছে বাঁশতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আজিজ ভাট্টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা ও স্থানীয় বাজারসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। সংযোগ সড়ক না থাকায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সাধারণ মানুষকে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মই বেয়ে সেতুতে উঠতে হচ্ছে।

স্থানীয়দের দাবি, অন্তত ১০টি গ্রামের প্রায় ৩০ হাজার মানুষ এই সেতুর ওপর নির্ভরশীল। বিশেষ করে শিশু, নারী ও বয়স্কদের জন্য পরিস্থিতি সবচেয়ে বিপজ্জনক। বাঁশের মই দুলতে থাকায় প্রায়ই পা পিছলে পড়ে গিয়ে আহত হওয়ার ঘটনা ঘটছে।

সুন্দরবন ইউনিয়নের বাসিন্দা গোলাম মোস্তফা বলেন, কোটি টাকার সেতু তৈরি হলেও সংযোগ সড়ক না থাকায় এটি অচল হয়ে আছে। দ্রুত জমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন করে সড়ক নির্মাণ না করলে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

স্থানীয় বাসিন্দা সফিকুল ইসলাম বলেন, পাঁচ বছর ধরে আমরা দুর্ভোগ পোহাচ্ছি। জমি জটিলতার অজুহাতে কাজ থেমে আছে। কিন্তু কষ্ট তো আমাদেরই করতে হচ্ছে।

আরেক বাসিন্দা নাসরিন বলেন, মই থেকে পড়ে আমার স্বামী গুরুতর আহত হয়েছেন। প্রতিদিন ছোট ছোট বাচ্চারা ভয় নিয়ে এই পথ দিয়ে স্কুলে যায়। দ্রুত রাস্তা নির্মাণ করা দরকার।

আজিজ ভাট্টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মুনিয়া বলেন, মই বেয়ে উঠতে খুব ভয় লাগে। উপরে উঠলে দুলতে থাকে। বাঁশতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী জান্নাতুল ইসলাম বলেন, মইটা অনেক উঁচু। ভয় লাগে, কিন্তু স্কুলে যেতে হলে এই পথেই যেতে হয়।

স্থানীয়দের প্রশ্ন, কোটি টাকার সেতু নির্মাণের আগে কেন সংযোগ সড়কের বিষয়টি নিশ্চিত করা হলো না? দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ না নিলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা।

এ বিষয়ে বাগেরহাট এলজিইডির সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী মো. মশিউর রহমান এশিয়া পোস্টকে বলেন, সেতুটির নির্মাণকাজ একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সম্পন্ন করেছে। জমি অধিগ্রহণসংক্রান্ত জটিলতার কারণে সংযোগ সড়ক নির্মাণ বিলম্বিত হয়েছে। তবে সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং দ্রুত সমাধানের আশা করা হচ্ছে।