logo

পূজা দেখতে বের হয়ে নিখোঁজ, দুই দিন পর মিলল কলেজছাত্রের মরদেহ

        



পূজা দেখতে বের হয়ে নিখোঁজ, দুই দিন পর মিলল কলেজছাত্রের  মরদেহ
নিহত কৌশিক সাহা জিতু। ছবি : পরিবারের কাছ থেকে নেওয়া

মায়ের সঙ্গে পূজামণ্ডপ ঘুরে বাড়ি ফিরেছিলেন। তবে পোশাক বদলে আবারও পূজা দেখতে বের হন। যাওয়ার সময় মায়ের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে পকেটে ভরেছিলেন বাড়ির গেটের চাবি। কিন্তু সেই যে বের হলেন, আর বাড়ি ফেরা হলো না। দুদিন পর কুমার নদ থেকে উদ্ধার করা হলো সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের শিক্ষার্থী কৌশিক সাহা জিতুর (২৩) মরদেহ।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ফরিদপুর পৌরসভার ভাটিলক্ষ্মীপুর এলাকার মদনখালী স্লুইসগেট সংলগ্ন কুমার নদ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

নিহত কৌশিক সাহা জিতু ফরিদপুর শহরের ওয়্যারলেসপাড়া এলাকার কমলেশ সাহার ছেলে। তিনি সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের রসায়ন বিভাগের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

পুলিশ ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ অক্টোবর বিকেলে মায়ের সঙ্গে শহরের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ ঘুরে বাড়ি ফেরেন কৌশিক। পরে পোশাক পরিবর্তন করে আবার মণ্ডপে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বের হন। এ সময় পকেটে বাড়ির গেটের চাবি রয়েছে বলে মাকে জানিয়ে যান তিনি। তবে রাতে আর বাড়ি ফিরে আসেননি।

পরদিন সোমবার (১৯ অক্টোবর) সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজ করেও তার সন্ধান না পেয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে পরিবার।

মঙ্গলবার সকাল ৭টার দিকে স্থানীয় বাসিন্দারা কুমার নদে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল দেন। খবর পেয়ে নৌ-পুলিশের ফরিদপুর কোতোয়ালি ফাঁড়ি ও কোতোয়ালি থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। এ সময় মরদেহটি অর্ধগলিত অবস্থায় ছিল।

সংবাদ পেয়ে কৌশিকের বাবা কমলেশ সাহাসহ স্বজনেরা ঘটনাস্থলে ছোটেন। পরনের টি-শার্ট ও প্যান্ট দেখে প্রাথমিকভাবে লাশটি শনাক্ত করেন তারা। পরে পকেটে পাওয়া চাবিটিই নিশ্চিত পরিচয়ের মূল সূত্র হয়ে ওঠে।

কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাসুদ হোসেন জানান, লাশ পচে ফুলে যাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে চিনতে সমস্যা হচ্ছিল। ফলে পকেটে থাকা চাবিটি কৌশিকের বাড়িতে নিয়ে পরীক্ষা করা হয়। চাবি দিয়ে বাড়ির তালা খুলে যাওয়ায় তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে।

ঘটনার খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আজমীর হোসেন, কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহামুদুল হাসানসহ সিআইডি ও পিবিআইয়ের তদন্ত দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজমীর হোসেন জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। ঘটনার রহস্য উদ্‌ঘাটনে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে।