logo
Advertisement

হাত দিয়ে ৩০ পারা কোরআন লিখলেন কুমিল্লার সুরাইয়া

এশিয়া পোস্ট নিউজ, কুমিল্লা
হাত দিয়ে ৩০ পারা কোরআন লিখলেন কুমিল্লার সুরাইয়া
খুলে দেখানো হচ্ছে সুরাইয়ার হাতে লেখা কোরআন। লাকসাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে। ছবি: এশিয়া পোস্ট

হাত দিয়ে সম্পূর্ণ ৩০ পারা পবিত্র কোরআন লিখে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার শিক্ষার্থী সুরাইয়া জান্নাত। তার হাতে লেখা কোরআন এতটাই নিখুঁত যে, প্রথম দেখায় এটি ছাপা নাকি হাতে লেখা তা বোঝা কঠিন।

Advertisement

১৮ বছরের সুরাইয়া জান্নাত লাকসাম উপজেলার মুদাফরগঞ্জ এ ইউ ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার আলিম দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তার বাড়ি উপজেলার কান্দিরপাড় ইউনিয়নের চাঁদগাঁও গ্রামে। তিনি সৌদি প্রবাসী নুর হোসেন লিটন ও জান্নাতুল ফেরদৌস দম্পতির কন্যা।

সুরাইয়ার অর্জনের স্বীকৃতি হিসেবে লাকসাম উপজেলার কান্দিরপাড় ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে তাকে সম্মাননা স্মারক ও ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।

এ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক রাশেদা আক্তার, লাকসাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নার্গিস সুলতানা, কান্দিরপাড় ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নুর ইসলাম প্রমুখ।

লাকসামের ইউএনও নার্গিস সুলতানা এশিয়া পোস্টকে বলেন, এত অল্প বয়সে নিজ হাতে পুরো কোরআন লিখে সুরাইয়া একটি অনন্য নজির স্থাপন করেছে। তার হাতের লেখা অত্যন্ত সুন্দর ও নিখুঁত। আমরা তার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করি। তার পড়াশোনার জন্য সহযোগিতা লাগলে আমরা সেটিও করব।

সুরাইয়াকে ক্রেস্ট প্রদান অনুষ্ঠান। লাকসাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে। ছবি: এশিয়া পোস্ট
সুরাইয়াকে ক্রেস্ট প্রদান অনুষ্ঠান। লাকসাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে। ছবি: এশিয়া পোস্ট

২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কোরআন লেখা শুরু করেন সুরাইয়া। মাদ্রাসার নিয়মিত ক্লাস ও পড়াশোনার ফাঁকে প্রতিদিন সময় বের করে যত্নের সঙ্গে লিখতে থাকেন পবিত্র কোরআন। টানা ৮ মাসের প্রচেষ্টায় তিনি ৬১১ পৃষ্ঠার পুরো কোরআন লেখা সম্পন্ন করেন। এ কাজে তার প্রায় ৫৫টি কলম ব্যবহার হয়েছে।

সুরাইয়া জানান, আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন এবং মহানবী (সা.)-এর শাফায়াত লাভের আশায় তিনি এই উদ্যোগ নেন। প্রতিবার লেখার আগে অজু করতেন এবং দরূদ শরীফ পাঠ করে লেখা শুরু করতেন, যাতে কাজের মধ্যে বরকত থাকে।

তিনি বলেন, অন্যদের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সময় নষ্ট না করে ভালো ও কল্যাণকর একটি কাজ করতে চেয়েছি। সাহাবায়ে কেরাম যেভাবে কষ্ট করে কোরআন সংরক্ষণ করেছেন, সেই অনুপ্রেরণা থেকেই আমার এই প্রচেষ্টা।

সুরাইয়া আরও জানান, পুরো কোরআন লেখার পেছনে তাকে সবচেয়ে বেশি উৎসাহ দিয়েছে তার ছোট ভাই নাহিদ হাসান, যিনি আবেদনগর দাখিল মাদ্রাসার দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। ভবিষ্যতে তিনি হাদিসের বিখ্যাত গ্রন্থ সহিহ বুখারিও নিজ হাতে লেখার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন এবং সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন।

সুরাইয়ার মা জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, ছোটবেলা থেকেই আরবি ভাষা ও সুন্দর হাতের লেখার প্রতি তার আগ্রহ ছিল। মেয়ের এই ব্যতিক্রমী সাফল্যে আনন্দিত হয়ে তার বাবা নুর হোসেন লিটন তাকে এক লাখ টাকা পুরস্কার দিয়েছেন।