বিদ্যালয়ের ভবনে ফাটল, আতঙ্কে পরিত্যক্ত কক্ষে চলছে পাঠদান

রাজবাড়ী সদর উপজেলার ঢালা রাজাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন এখন যেন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। ভবনের বিভিন্ন কলামে ফাটল দেখা দিয়েছে, ছাদ থেকে নিয়মিত খসে পড়ছে পলেস্তারা। দুর্ঘটনার আশঙ্কায় শিক্ষার্থীরা ছেড়ে দিয়েছে শ্রেণিকক্ষ। বাধ্য হয়ে বর্তমানে বিদ্যালয়ের পাশের একটি বহু পুরোনো পরিত্যক্ত টিনশেড ঘরে চলছে পাঠদান।
শুধু তাই নয়, যে টিনশেড ঘরে ক্লাস নেওয়া হচ্ছে, সেটিও বেহাল অবস্থায় রয়েছে। ঘরটিতে নেই ঠিকমতো দরজা-জানালা। ঝুঁকিপূর্ণ ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশেই শিক্ষার্থীদের পাঠদান চালিয়ে যেতে হচ্ছে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৪৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এ বিদ্যালয়ে একতলা দুটি ভবন রয়েছে। এর মধ্যে একটি ভবনের ছাদের কলাম ও বিভিন্ন অংশে বড় ধরনের ফাটল দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া ভবনের বিভিন্ন স্থান থেকে নিয়মিত পলেস্তারা খসে পড়ছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে ওই ভবনে ক্লাস নেওয়া বন্ধ রেখেছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
বর্তমানে বিদ্যালয়ে ব্যবহারযোগ্য শ্রেণিকক্ষ রয়েছে মাত্র দুটি। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। বাধ্য হয়ে পরিত্যক্ত টিনশেড ভবনেই চলছে পাঠদান।
সরেজমিনে দেখা গেছে, শ্রেণিকক্ষ-সংকটের কারণে একটি কক্ষের ভেতরে অস্থায়ীভাবে পর্দা টানিয়ে বিদ্যালয়ের জন লাইব্রেরি তৈরি করা হয়েছে। সেখানেই বসছেন শিক্ষকরা। একই সঙ্গে অপ্রতুল জায়গায় গাদাগাদি করে চলছে একাধিক শ্রেণির ক্লাস।
চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল বলে, আমরা যে ক্লাসরুমে পড়তাম, সেটাতে ফাটল ধরেছে। কখন যে আমাদের মাথার ওপর ভেঙে পড়ে, সেই ভয় থাকে।
পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী লামিয়া বলে, ক্লাসরুম না থাকায় আমরা এখন একটি ভাঙাচোরা ঘরে ক্লাস করি। এতে আমাদের অনেক সমস্যা হয়।
আরেক শিক্ষার্থী সোয়াইব বলে, স্কুলটি কখন যেন আমাদের মাথার ওপর ভেঙে পড়ে। তাই আমাদের নতুন স্কুল ভবন দরকার।
স্থানীয় বাসিন্দা ও বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী মোহাম্মদ হৃদয় বলেন, আমরা সবসময় আতঙ্কে থাকি। কখন যেন ভবনটি ভেঙে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিষয়টিকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না। দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ করা প্রয়োজন।
স্থানীয় দোকানদার শামীম বলেন, আমাদের সন্তানরা এই স্কুলে পড়ে। ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় সবসময় ভয় কাজ করে। দুর্ঘটনা ঘটার আগেই নতুন ভবন নির্মাণ করা উচিত।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সুদর্শন কুমার বিশ্বাস বলেন, বিদ্যালয়ের একতলা ভবনটি ফাটল ধরে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। আমরা সেখানে ক্লাস নিতে পারছি না। আবার যে টিনশেড ঘরে ক্লাস নিচ্ছি, সেটিও ঝুঁকিপূর্ণ। সুন্দর শ্রেণিকক্ষের অভাবে শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ডিএম স্বাধীন বলেন, আমাদের বিদ্যালয়ে ২৯৩ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। কিন্তু ব্যবহারযোগ্য শ্রেণিকক্ষ মাত্র দুটি। প্রতিদিন শিশু শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ছয়টি শ্রেণির ক্লাস নিতে হয়। শ্রেণিকক্ষ-সংকটের কারণে শিক্ষার্থীদের ঠিকভাবে পাঠদান করা যাচ্ছে না। দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ খুবই জরুরি।
এ বিষয়ে সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ফকির মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম বলেন, ঢালা রাজাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবনের জন্য সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরে আবেদন ও চিঠিপত্র পাঠানো হয়েছে।
