logo

বগুড়ায় পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ৫০, আতঙ্কে এলাকাবাসী

বগুড়ায় পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ৫০, আতঙ্কে এলাকাবাসী
শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। ছবি: এশিয়া পোস্ট

বগুড়ার শেরপুরে একটি পাগলা কুকুরের কামড়ে শিশু ও নারীসহ অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সন্ধ্যা থেকে শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত উপজেলার কয়েকটি এলাকায় কুকুরটির আক্রমণে এসব মানুষ আহত হন। তাদের মধ্যে ২৬ জন শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন। বাকিদের কেউ বগুড়া শহরের বিভিন্ন হাসপাতালে, আবার কেউ স্থানীয় ক্লিনিক ও ফার্মেসিতে চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে বাগড়া কলোনি, কেল্লা, টুনিপাড়া ও হাপুনিয়া এলাকায় একটি হিংস্র কুকুর বেপরোয়াভাবে ঘুরে বেড়াতে শুরু করে। এ সময় যাকে সামনে পেয়েছে, তাকেই কামড়ে আহত করেছে কুকুরটি। নারী ও শিশুসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ কুকুরটির আক্রমণের শিকার হন। একের পর এক মানুষকে কামড়ানোর ঘটনায় এলাকাগুলোতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

আহত ব্যক্তিরা শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা ও জলাতঙ্কের টিকা নেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের হিসাব অনুযায়ী, সেখানে ২৬ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, কুকুরটির কামড়ে আহত মানুষের সংখ্যা অর্ধশতাধিক।

স্থানীয়দের ভাষ্য, টিকার সংকটের আশঙ্কা এবং হাসপাতালের দূরত্বের কারণে অনেককে স্বজনেরা বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে নিয়ে যান। এ ছাড়া কয়েকজন স্থানীয় ক্লিনিক ও ফার্মেসি থেকেও চিকিৎসা ও টিকা নিয়েছেন।

কুকুরটির আক্রমণের পর থেকে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোর বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। বিশেষ করে শিশুদের বাইরে বের হওয়া নিয়ে উদ্বিগ্ন অভিভাবকেরা। অনেকে প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছেন না।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, এলাকায় বেওয়ারিশ ও হিংস্র কুকুরের উপদ্রব নিয়ন্ত্রণে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। অন্যথায় আরও মানুষ আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আমিরুল ইসলাম বলেন, কুকুরের কামড়ে আহত ২৬ জন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসেছিলেন। তাদের প্রত্যেককে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও টিকা দেওয়া হয়েছে। পরে তাদের বাড়িতে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে সবাই আশঙ্কামুক্ত রয়েছেন।