নতুন-পুরোনো ওসির টানাপড়েনে স্থবির সাপাহার থানা

নওগাঁর সাপাহার থানায় নতুন কর্মকর্তা যোগ দিলেও পুরোনো ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব বুঝিয়ে না দেওয়ায় চরম প্রশাসনিক অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। দায়িত্ব হস্তান্তর প্রক্রিয়ার বিলম্বের কারণে বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর পর্যন্ত স্থবির হয়ে পড়ে থানার স্বাভাবিক প্রশাসনিক ও আইনি কার্যক্রম। ফলে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) কিংবা জরুরি দাপ্তরিক সেবা নিতে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ সেবাপ্রার্থীরা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সাপাহার থানার বিদায়ি ওসি মিজানুর রহমানকে জয়পুরহাট জেলায় বদলি করে রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি কার্যালয়। তার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে নতুন ওসি শাহীন রেজা মঙ্গলবারই থানায় উপস্থিত হন। তবে নতুন কর্মকর্তা থানায় পৌঁছালেও বিদায়ি ওসি আনুষ্ঠানিকভাবে চার্জ বুঝিয়ে না দেওয়ায় থানায় নেতৃত্বের জটিলতা তৈরি হয়।
বুধবার সকালে থানা প্রাঙ্গণে গিয়ে দেখা যায়, আইনি নানা কাজে আসা বহু মানুষ অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। সাপাহারের গাঞ্জাকুড়ি গ্রামের ষাটোর্ধ্ব প্রবীণ নাগরিক মোকসেদুল ইসলাম বলেন, জরুরি কাজে সকাল ৯টায় থানায় এসেছি। দুপুর দেড়টা বেজে গেলেও ওসির প্রশাসনিক জটিলতার কারণে কাজ হচ্ছে না। একটি প্রশাসনিক থানার দায়িত্ব হস্তান্তরের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে এমন দীর্ঘসূত্রতায় তীব্র অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে স্থানীয়দের মাঝে।
একই আক্ষেপ প্রকাশ করেন শিক্ষার্থী জারিফ। তিনি জানান, সকাল ১০টায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে এসে দুপুর ২টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে। ওসির ঘর ফাঁকা থাকায় পুলিশ সদস্যরা কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দিতে পারছিলেন না।
প্রশাসনিক এই স্থবিরতার বিষয়ে জানতে বিদায়ি ওসি মিজানুর রহমানের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তা রিসিভ হয়নি।
পরে থানায় গিয়ে তার বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করলে ডিউটিরত পুলিশ সদস্যরা জানান, ওসি মিজানুর রহমান ব্যস্ত আছেন। প্রায় এক ঘণ্টা পর তিনি নিজ কক্ষ থেকে বের হয়ে সাংবাদিকদের কোনো বক্তব্য না দিয়েই দ্রুত গাড়িতে উঠে চলে যান।
অন্যদিকে, নবাগত ওসি শাহীন রেজা নিশ্চিত করেছেন যে তিনি পূর্বের দিন থেকে থানায় অবস্থান করলেও আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো চার্জ বুঝে পাননি। উদ্ভূত বিষয়টি ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।


