মতলবে শ্রমিক হত্যা, ৭ ঘণ্টায় প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণে গরুর খামারের শ্রমিক মনজিল শেখ (৫৫) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মাত্র সাত ঘণ্টার মধ্যে প্রধান আসামি সাগর হোসেনকে (২৩) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রোববার (২৯ মার্চ) দুপুরে সাতক্ষীরা সদর উপজেলা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মতলব সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার জবীর হুসাইন সানীব।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মতলব দক্ষিণ উপজেলার খাদেরগাঁও ইউনিয়নের নারায়ণপুর এলাকার ইয়াকুব প্রধানের ‘এমএসপি এগ্রো’ নামের গরুর খামারে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন মনজিল শেখ ও সাগর হোসেন। খামারের কাজকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে প্রায়ই কথা-কাটাকাটি, ঝগড়া ও মারামারির ঘটনা ঘটত। এসব বিরোধ থেকেই শত্রুতার সৃষ্টি হয়।
এরই জেরে শনিবার রাতের কোনো এক সময় সাগর হোসেন ধারালো অস্ত্র দিয়ে মনজিল শেখের মাথার পেছনে আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। নিহত মনজিল শেখ উপজেলার নারায়ণপুর পৌরসভার উত্তর বাড়ৈগাঁও গ্রামের মৃত কালু শেখের ছেলে। তিনি চার বছর ধরে ওই খামারে কাজ করছিলেন। অপরদিকে সাগর হোসেন সাতক্ষীরা সদর উপজেলার পায়রাডাঙ্গা গ্রামের আব্দুল জব্বারের ছেলে এবং দেড় বছর ধরে খামারে কর্মরত ছিলেন।
ঘটনার খবর পেয়ে সহকারী পুলিশ সুপার জবীর হুসাইন সানীব ও মতলব দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুর রহমান মানিক ঘটনাস্থলে যান। পরে পুলিশ সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
হত্যাকাণ্ডের পর সাগর হোসেন ঢাকা হয়ে গুলিস্তান থেকে সাতক্ষীরার টিকিট কেটে ভারতে পালানোর চেষ্টা করেন। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে সাতক্ষীরা জেলা পুলিশের সহযোগিতায় সীমান্ত অতিক্রমের আগেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
খামারের মালিক সেলিম প্রধানীয়ার ছোট ভাই ইয়াকুব প্রধান জানান, দুই শ্রমিকের মধ্যে আগে একাধিকবার বিরোধ হলেও তা মীমাংসা করা হয়েছিল। রোববার সকালে খামারে গিয়ে কোনো সাড়া না পেয়ে ভেতরে ঢুকে মনজিল শেখের রক্তাক্ত মরদেহ দেখতে পান তিনি। পরে স্থানীয়দের জানালে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে।
মতলব দক্ষিণ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি)হাফিজুর রহমান মানিক বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের মেয়ে মুক্তা বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
সহকারী পুলিশ সুপার জবীর হুসাইন সানীব জানান, আসামি পালানোর চেষ্টা করলেও দ্রুত প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে সাত ঘণ্টার মধ্যেই তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।