logo

পাবনায় জামায়াত নেতাদের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট

পাবনায় জামায়াত নেতাদের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট

পাবনায় দাঁড়িপাল্লার নির্বাচন করায় জামায়াত নেতাদের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাটসহ নানা অভিযোগ উঠেছে। ‎পাবনা সদরের ভাঁড়ারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা  সুলতান মাহমুদ খানের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ করা হয়। ‎শনিবার বিকেলে পাবনা সদর থানায় লিখিত অভিযোগ জমা দেন ভুক্তভোগী মো. জাহিদ হাসান মুসা। এর আগে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার বিকেলে ভাঁড়ারা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

‎অভিযোগসূত্রে জানা গেছে, ভাঁড়ারা গ্রামের মো. জাহিদ হাসান মুসার বাড়িতে শুক্রবার বিকেলের দিকে ঘটনার সূত্রপাত। সেদিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সুলতান মাহমুদ খান ও তার সহযোগী আলম  তাদের বাড়িতে যান। সেখানে  গিয়ে তারা নারী সদস্যদের অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন। এক পর্যায়ে অভিযুক্তরা সেখানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। সেসময় তারা বাড়িতে থাকা আট লাখ টাকা মূল্যের টিভি, ফ্রিজ, আলমারী, মোটরসাইকেলসহ আসবাবপত্র ব্যাপক ভাঙচুর করে। এ সময় মাছ বিক্রির আনুমানিক ৮ লক্ষাধিক টাকা ও ৫৫ লাখ টাকা মূল্যের স্বর্ণালংকার লুটপাট করে নেওয়ার কথাও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর গোয়ালে থাকা গরু লুটপাট করার চেষ্টা হয়।

আরও অভিযোগ উঠেছে যে, পাশের ইয়াসিন আলীর বাড়িতে এই বাহিনী হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করে। তারা উল্লেখ করেন, হামলার সময় দেশীয় অস্ত্র, চাইনিজ কুড়াল, হকিস্টিক নিয়ে হামলা করা হয়। এসব সন্ত্রাসী এখনো এলাকায় মহড়া দিয়ে বেড়াচ্ছে ধারণা করে আতঙ্কিত ভুক্তভোগী পরিবারগুলো। 

‎ভুক্তভোগী জাহিদ হাসান মুসা বলেন, দাঁড়িপাল্লার নির্বাচন করায় আমাদের বাড়িতে আওয়ামী লীগের ইউপি চেয়ারম্যান সুলতান মাহমুদ খানের নেতৃত্বে ব্যাপক হামলা চালানো হয়েছে। এ সময় তারা লুটপাট ও ভাঙচুর করেছে। তাকে আমরা ভোট দিয়ে চেয়ারম্যান বানিয়েছিলাম।  কিন্তু এলাকায় সে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। তিনি দাবি করেন, এলাকায় অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করতে তাদের লোকজনের বাড়িতে হামলা চালানো হচ্ছে। অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি করেন জাহিদ হাসান।

‎এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ভাঁড়ারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সুলতান মাহমুদ খানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। ষড়যন্ত্র করে তাকে ফাঁসানো হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমি ধানের শীষের রাজনীতিও করি না। ধানের শীষের নির্বাচনও করিনি। আমাকে ষড়যন্ত্র করে এ ঘটনায় ফাঁসানো হচ্ছে। এলাকায় এসে আপনার তদন্ত করেন।

‎পাবনা সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দুলাল হোসেন বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।