logo
এশিয়া পোস্টে সংবাদ প্রকাশ

সেতুর নিচে পড়ে থাকা সেই শিশু পেল নতুন ঠিকানা

সেতুর নিচে পড়ে থাকা সেই শিশু পেল নতুন ঠিকানা
নতুন ঠিকানা পেল পরিচয়হীন সেই নবজাতক। ছবি : এশিয়া পোস্ট

জন্মের পর হারিয়েছিল নিজের সব পরিচয়। জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের ১৮ নম্বর বেডই ছিল তার একমাত্র আশ্রয়। অবশেষে এক মাস ৮ দিন পর নতুন ঠিকানা পেল পরিচয়হীন সেই নবজাতক।

গত ২৩ এপ্রিল এশিয়া পোস্ট অনলাইন ও মাল্টিমিডিয়ায় ‘অজ্ঞাত নবজাতককে ঘিরে মানবিকতার গল্প’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। নাম-পরিচয়হীন অবস্থায় উদ্ধার হওয়া ওই কন্যাশিশুটির মানবিক গল্প প্রকাশের পর দেশজুড়ে ব্যাপক সাড়া পড়ে। হাসপাতালের নার্সদের ভালোবাসায় শিশুটির নাম রাখা হয় মারিয়াম।

এর আগে, গত ৮ এপ্রিল জামালপুর-শেরপুর সেতুর নিচে ফেরীঘাট এলাকায় পরিত্যক্ত অবস্থায় নবজাতক শিশুটিকে উদ্ধার করেন একজন গাড়িচালক। পরে তিনি শিশুটিকে এনে ভর্তি করেন জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে। হাসপাতালে আনার সময় শিশুটির শারীরিক অবস্থা ছিল আশঙ্কাজনক। চিকিৎসক, নার্স ও হাসপাতালের স্টাফদের নিবিড় সেবা, যত্ন এবং ভালোবাসায় ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠে শিশুটি। এরপর এশিয়া পোস্টে প্রতিবেদন প্রকাশের পর শিশুটিকে দত্তক নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেন অনেকেই।

জানা গেছে, শিশুটিকে দত্তক নিতে শিশু কল্যাণ বোর্ডে আবেদন করেন ২০টির বেশি দম্পতি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আইনি ও সামাজিক যাচাই-বাছাই শেষে শনিবার (১৬ মে) দুপুরে শহরের একটি দম্পতির কাছে শিশুটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়। হস্তান্তরের সময় হাসপাতাল প্রাঙ্গণে আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয়। এ সময় জেলা প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, সমাজসেবা অধিদপ্তরসহ জেলার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

jamalpur1
jamalpur1

এ সময় শিশুটির দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা হাসপাতালে নার্স রুবি বলেন, ‘এশিয়া পোস্ট সর্বপ্রথম সংবাদ প্রকাশ করে। তারপর বিভিন্ন গণমাধ্যমের কল্যাণে এই অজ্ঞাত বাচ্চাটির বিষয়টি বিভিন্ন জায়গায় ভাইরাল হয়েছে। আর ভাইরাল হওয়ার পর মারিয়াম ভালো একজন বাবা-মা পেয়েছে। এই বাবা-মার হাতেই আমরা বাচ্চাটিকে তুলে দিয়েছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘খুবই ভালো লাগছে যে মারিয়াম একটা ভালো পরিবার ও ভালো বাবা-মা পেয়েছে। আমাদের এখানে এক মাস আট দিনের সেবায় ও আজকে অনেকটা সুস্থ। বাচ্চাটা নতুন মা পেয়েছে সেজন্য আমরা খুবই খুশি হয়েছি। আজকে আমরা ওকে সেই নতুন বাবা-মার কাছে হস্তান্তর করেছি।’

এ বিষয়ে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান সোহান বলেন, হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর চিকিৎসক, নার্স ও স্টাফদের আন্তরিক সেবায় শিশুটি সুস্থ হয়ে ওঠে। পরে জেলা প্রশাসন, সমাজসেবা অধিদপ্তর ও শিশু কল্যাণ বোর্ডের আইনগত প্রক্রিয়া শেষে যাচাই-বাছাই করে একটি নিঃসন্তান দম্পতির কাছে শিশুটিকে হস্তান্তর করা হয়েছে।