
শরতের আগমনে শুভ্র কাশফুলে সেজে উঠেছে গাইবান্ধার তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা নদীবেষ্টিত চরাঞ্চল। বিশেষ করে ফুলছড়ি ও বালাসী ঘাটসংলগ্ন নদীপাড়জুড়ে কাশফুলের শুভ্র সমারোহ প্রকৃতিপ্রেমী, ভ্রমণপিপাসু ও কনটেন্ট নির্মাতাদের কাছে হয়ে উঠেছে অন্যতম আকর্ষণ।
সরেজমিনে দেখা যায়, নদীর তীরজুড়ে দুলছে সাদা কাশফুল। হাতে মোবাইল ফোন বা ক্যামেরা নিয়ে প্রিয়জনদের সঙ্গে সেখানে ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ ভিডিও ধারণ করছেন, আবার কেউ শরতের প্রকৃতি উপভোগে সময় কাটাচ্ছেন। প্রতিদিন জেলার বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও দূর-দূরান্ত থেকে দর্শনার্থীরা এখানে আসছেন।
সাঘাটার বোনারপাড়া ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী মারুফা আক্তার জানান, স্বামী ও তিন বোনকে নিয়ে কাশফুল দেখতে এসেছেন। কাশফুলের সৌন্দর্যে তিনি মুগ্ধ হয়েছেন এবং পরিবারের সদস্যদের নিয়ে স্মৃতিময় কিছু সময় কাটিয়েছেন।
সাঘাটার কচুয়া ইউনিয়নের সোহান সরকার বলেন, স্ত্রীকে নিয়ে ফুলছড়ি ঘাটে এসেছেন। কাশফুলে ঘেরা পরিবেশে ছবি তুলে ভালো সময় কাটিয়েছেন।
গাইবান্ধা সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী মতিউর রহমান বলেন, সাহিত্য ও কবিতায় কাশফুলের কথা বহুবার পড়েছেন। এবার যমুনার তীরে কাশফুলের অপরূপ সৌন্দর্য কাছ থেকে দেখে মুগ্ধ হয়েছেন।
কনটেন্ট নির্মাতা ময়নুল ইসলাম বলেন, গাইবান্ধার মধ্যে ফুলছড়ি ও বালাসী ঘাট ভিডিও ধারণের জন্য অন্যতম নান্দনিক স্থান। প্রতিবছর শরৎ মৌসুমে অসংখ্য দর্শনার্থী এখানে ঘুরতে আসেন।
গাইবান্ধা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও লেখক অমিতাভ দাস হিমুন এশিয়া পোস্টকে বলেন, শরৎকালে কাশফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিদিন অনেক মানুষ ফুলছড়ি ও বালাসী ঘাটে ভিড় করেন। পরিবার-পরিজন নিয়ে প্রকৃতির সান্নিধ্যে সময় কাটানোর জন্য এটি একটি আকর্ষণীয় স্থান।
দেশবরেণ্য আলোকচিত্রী ও দৃক নিউজের ফটোগ্রাফার কুদ্দুস আলম এশিয়া পোস্টকে বলেন, শরৎকালে গাইবান্ধার চরাঞ্চলের কাশফুলের সৌন্দর্য ধারণ করতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আলোকচিত্রী ও দর্শনার্থীরা আসেন। তার তোলা কাশফুলের অনেক ছবি দেশ-বিদেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও প্রামাণ্যচিত্রে ব্যবহৃত হয়েছে। নদী, চর ও কাশফুলের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য তাকে প্রতিবারই নতুন করে আকৃষ্ট করে।
