চিরকুট দিয়ে ডেকে ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ, শিক্ষক গ্রেপ্তার

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে চতুর্থ শ্রেণির এক ছাত্রীকে বিদ্যালয়ের শৌচাগারে ডেকে নিয়ে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে মো. শাহ আলম নামে এক সহকারী শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি উপজেলার বড় বায়সা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকালে অভিযুক্ত শিক্ষক বিদ্যালয়ে এলে বিষয়টি জানতে পেরে ক্ষুব্ধ স্থানীয় লোকজন তাকে মারধর করে একটি কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখেন। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও কালীগঞ্জ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে পুলিশ হেফাজতে নেয়।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পরিবারের অভিযোগ, সোমবার (১৭ আগস্ট) বিদ্যালয় চলাকালে অভিযুক্ত শিক্ষক চিরকুটের মাধ্যমে ওই ছাত্রীকে বিদ্যালয়ের শৌচাগারে যেতে বলেন। চিরকুট পেয়ে সেখানে গেলে শিক্ষক তার সঙ্গে যৌন নিপীড়নমূলক আচরণ করেন। পরে ছাত্রীটি কৌশলে সেখান থেকে বেরিয়ে বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানায়।
পরদিন মঙ্গলবার সকালে শিক্ষক শাহ আলম বিদ্যালয়ে পৌঁছালে ঘটনাটি জানাজানি হয় এবং স্থানীয়রা তাকে অবরুদ্ধ করেন। পরে প্রধান শিক্ষক ও স্থানীয় প্রশাসনকে খবর দেওয়া হয়।
বড় বায়সা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. পিয়ার আলী জানান, ভুক্তভোগী ছাত্রীর কাছ থেকে তিনি জানতে পেরেছেন যে অভিযুক্ত শিক্ষক তাকে প্রায়ই টাকা দিতেন। তবে সোমবারের ঘটনার বিষয়ে ছাত্রীটি বিদ্যালয়ে কাউকে না জানিয়ে সোজা বাড়িতে চলে যায়। মঙ্গলবার সকালে শিক্ষক অবরুদ্ধ হওয়ার খবর পেয়ে তিনি শিক্ষা অফিসকে অবহিত করেন।
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন বলেন, স্থানীয়দের হাত থেকে শিক্ষক শাহ আলমকে উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ছাত্রীর মা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১০ ধারায় মামলা করেছেন। মামলায় অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে এবং বুধবার তাকে আদালতে পাঠানো হবে।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক শাহ আলমের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।



