logo

পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া আসামির হাতকড়াসহ ফেসবুক লাইভ

পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া আসামির হাতকড়াসহ ফেসবুক লাইভ
ফেসবুক লাইভে হাতকড়া দেখাচ্ছেন আসামি। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জে পুলিশের কাছ থেকে হাতকড়াসহ গ্রেপ্তারকৃত ডাকাতির মামলার এক আসামিকে স্বজন ও স্থানীয় লোকজন ছিনিয়ে নিয়েছে বলে জানা গেছে। পুলিশের কাছ থেকে লাপাত্তা হয়ে ওই আসামি হাতকড়া পরা অবস্থায় ফেসবুকে লাইভে আসেন।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বুধবার সাড়ে রাত নয়টার দিকে সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার দামোধরতপী গ্রামের কাছে দামোধরতপী পয়েন্টে আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়।

ছিনিয়ে নিয়ে যাওয়া আসামির নাম মো. আসির মিয়া, তিনি দামোধরতপী গ্রামের মৃত শফিক মিয়ার ছেলে।

পুলিশের কাছ থেকে লাপাত্তা হওয়ার পর আসামি আসির মিয়া রাত সাড়ে ১০টায় নিজের ফেসবুক লাইভে এক হাতে হাতকড়াসহ ভিডিও প্রচার করেন।

ফেসবুক লাইভে আসামি আসির মিয়া হাতকড়া দেখিয়ে দাবি করেন, শান্তিগঞ্জ থানার ওসির নির্দেশে এস আই এসআই নুর উদ্দিনের নেতৃত্বে কয়েকজন পুলিশ অফিসার তার ওপর হামলা করে। তাকে হাতকড়া পরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় তিনি পুলিশের কাছে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা দেখতে চাইলে পুলিশ দেখায়নি।

পুলিশ সূত্রে গেছে, আসির মিয়া ও তার দুই ভাই নাছির মিয়া ও বাচ্ছু মিয়ার বিরুদ্ধে ডাকাতির অভিযোগ করেন দামোধরদপী গ্রামের বাসিন্দা মো. জিয়াউল হক বেগ। পুলিশ এই মামলায় আসির মিয়াকে গ্রেপ্তার করে হাতকড়া পড়িয়ে থানায় নিয়ে আসার সময় স্থানীয় লোকজন পুলিশের কাছ থেকে তাকে ছিনিয়ে নেয়।

বুধবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে শান্তিগঞ্জ থানার এসআই নুর উদ্দিনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল দামোধরদপী পয়েন্টে অভিযান চালিয়ে আসির মিয়াকে গ্রেপ্তার করে। তাকে হাতকড়া পড়িয়ে পুলিশ থানায় নেওয়ার সময় সেখানে হট্টগোল শুরু হয়। আসামি আসির মিয়া তার ফেসবুকে লাইভ করে ঘটনার বিবরণ প্রচার করতে থাকেন। এক পর্যায়ে তার স্বজন ও স্থানীয় লোকজন আসির মিয়াকে হাতকড়াসহ পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয়।

আসির মিয়াকে পুনরায় গ্রেপ্তার করতে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে সাঁড়াশি অভিযান ও তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ। তবে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি বলে জানা গেছে।

দামোধরদপী গ্রামের বাসিন্দা ও পূর্ব পাগলা ইউনিয়ন পরিষদের স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. আজির উদ্দিন জানান, আসির মিয়াকে আটকের সময় হইচইয়ের মধ্যে সুযোগ বুঝে তিনি পুলিশের হাতকড়াসহ পালিয়ে গেছে।

শান্তিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অলী উল্লাহ জানান, হাতকড়া নিয়ে আসামি পালিয়েছে তা ঠিক নয়। একজন অফিসার নিয়মিত মামলার আসামিকে ধরার পর মহিলারা একটু ঝামেলা সৃষ্টি করেছিলেন তখন সে পালিয়ে যায়। আসামি হাতকড়া নিয়ে পালায়নি।