হাওরে বোরো ধান কাটা শুরু, প্রতি বিঘায় ফলন হচ্ছে ১৫-২০ মণ

বোরো ফসলের ভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত সুনামগঞ্জের হাওরে ধান কাটা শুরু হয়েছে। নতুন বছরের প্রথম মাস বৈশাখের শুরু থেকেই ধান কাটা চলছে জেলার প্রায় সব হাওরে। কৃষক ও শ্রমিকদের পাশাপাশি কৃষিযন্ত্রের (কম্বাইন্ড হারভেস্টার ও রিপার) সাহায্যে চলছে ধান কাটা।
কৃষকরা জানিয়েছেন চলতি মওসুমে হাওরে বোরো ধানের ভাল ফলন হয়েছে তবে বৃষ্টিতে কিছু কিছু হাওরে পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। আগাম জাতের ধান কাটা শুরু হয়েছে, প্রতি কিয়ার (৩০ শতাংশ) জমিতে ১৫ থেকে ২০ মণ করে ধানের ফলন হচ্ছে। উচ্চ ফলনশীল উফশি ও হাইব্রিড জাতের মোটা ধান কাটা আরও কয়েকদিন পর শুরু হবে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বোরো মওসুমে সুনামগঞ্জের ছোট বড় ১৩৭টি হাওরের ২ লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমিতে ধান চাষাবাদ হয়েছে। ধানের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ১৪ লাখ মেট্রিক টন।
যার বাজার মূল্য ৫ হাজার কোটি টাকা। জেলায় বোরো চাষি রয়েছেন প্রায় ১০ লাখ। হাওরের বোরো ধান কাটার জন্য জেলার ১০ লাখ কৃষি শ্রমিকের পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকা থেকে কয়েক হাজার মৌসুমি শ্রমিকরা এসেছেন। জেলার ধান কাটার যন্ত্র ৬০২ টি কম্বাইন্ড হারভেস্টার ও ১৪৬টি রিপার রয়েছে। বিভিন্ন জেলা থেকে আরও ২৫টি কম্বাইন্ড হারভেস্টার এনেছেন কৃষকেরা।
সদর উপজেলার বিরামপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল হাকিম বলেন, কানলার হাওরে ৪৮ কিয়ার জমিতে মোটা ও চিকন জাতের ধান করেছিলাম। আগাম জাতের ধান কিছু কম হয়েছে তবে মোটা ও হাইব্রিড ধান মোটামুটি ভাল হয়েছে। ৬ কিয়ার জমির ধান কেটেছি। প্রতি কিয়ারে বি-আর ২৮ জাতের ধান ১২-১৪ মণ, বি-আর ৮৮ ধান ১৬-১৮ মণ করে হয়েছে। ’
শাল্লা উপজেলার ডুমরা গ্রামের কৃষক সুধাকর দাস বলেন, সময়মতো বৃষ্টি হওয়ায় ধানের ফলন মোটামুটি ভাল হয়েছে। ২৮ বিঘা জমির পুরোটাতেই মোটা ধান চাষ করেছি। ১৯ বিঘা জমির ধান কেটেছি, প্রতি বিঘা জমিতে হাইব্রিড জাতের ধান ২০ মণ করে পেয়েছি।
জামালগঞ্জ উপজেলার হালীর হাওরপাড়ের মাহমুদপুর গ্রামের বাসিন্দা ও সাবেক ইউপি সদস্য মশিউর রহমান বলেন, ১০ কিয়ার (বিঘা) জমিতে আগাম জাতের ধান বি-আর ২৮ ও বি-আর ৮৮ ধান চাষ করেছি। প্রতি কিয়ার জমিতে ১০-১২ মণ করে ধান হয়েছে।
তাহিরপুর উপজেলার বড়দল গ্রামের কৃষক সিরাজুল ইসলাম বললেন, শিলাবৃষ্টিতে ধানের কিছু ক্ষতি হয়েছে, তারপরও ফলন ভাল হয়েছে। ১২০ কিয়ার জমির মধ্যে ২৪ কিয়ার জমির আগাম জাতের বি-আর ৬৭ ধান কেটেছি। প্রতি কিয়ারে প্রায় ১৫ মণ করে ধান পেয়েছি।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, সময়মতো বৃষ্টি হওয়ায় বোরো ধানের ভাল ফলন হয়েছে। আগাম জাতের ধানের ফলন প্রায় ১২ থেকে ১৩ মণ ও হাইব্রিড ধানের ফলন ১৮ থেকে ২০ মণ করে পাচ্ছেন কৃষকরা। যদিও কিছু কিছু এলাকায় বৃষ্টির পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছিল তবে কৃষকরা বাঁধ কেটে ও পাম্প দিয়ে পানি নিষ্কাশন করেছেন।
আমাদের আশা ধানের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হবে। ইতোমধ্যে হাওরে ধান কাটা শুরু হয়েছে। আগামী সপ্তাহে পুরোদমে কাটা চলবে। ধান কাটার জন্য কৃষি শ্রমিকদের পাশাপাশি ৬২৭ টি কম্বাইন হারভেস্টার ও ১৪৬টি রিপার রয়েছে। যেসব জমির ধান ৮০ ভাগের বেশি পাকা সেগুলো কাটার জন্য আমরা কৃষকেদর অনুরোধ করছি।