logo

জরাজীর্ণ কোচে ঝুঁকি নিয়ে চলছে ঢাকা-সরিষাবাড়ী আন্তঃনগর ট্রেন

জরাজীর্ণ কোচে ঝুঁকি নিয়ে চলছে ঢাকা-সরিষাবাড়ী আন্তঃনগর ট্রেন
ছবি: এশিয়া পোস্ট

ঢাকা-জামালপুরের সরিষাবাড়ী রুটে চলাচলকারী আন্তঃনগর ট্রেনগুলোর জরাজীর্ণ কোচ, অপর্যাপ্ত সেবা এবং অনিয়মিত সময়সূচির কারণে দীর্ঘদিন ধরে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজারো যাত্রী। পূর্ণ ভাড়া পরিশোধ করলেও আধুনিক বা আরামদায়ক কোনো পরিষেবাই পাচ্ছে না যাত্রীরা।

বর্তমানে এই রুটে যমুনা এক্সপ্রেস, অগ্নিবীণা এক্সপ্রেস ও জামালপুর এক্সপ্রেস নামে তিনটি আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল করে। এর মধ্যে যমুনা ও অগ্নিবীণা এক্সপ্রেসের কোচগুলোর অবস্থা সবচেয়ে নাজুক বলে জানান যাত্রীরা। দীর্ঘদিন পুরোনো এসব কোচের আসন ভাঙা, জানালার কাচ নেই, দরজা ঠিকমতো বন্ধ হয় না, ফ্যানগুলো অচল এবং শৌচাগারের পরিবেশ অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর। ফলে গাদাগাদি করে এসব কোচে যাতায়াতের সময় নারী, শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ যাত্রীরা সবচেয়ে বেশি কষ্টের শিকার হচ্ছেন।

ট্রেনের সময়সূচি নিয়েও যাত্রীদের ক্ষোভ এখন চরমে। নির্ধারিত সময়ে ট্রেন না চলা, দীর্ঘ বিলম্বে গন্তব্যে পৌঁছানো এবং প্ল্যাটফর্মে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার কারণে চাকরিজীবী, শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। কাঙ্ক্ষিত সেবা না পেয়ে অনেকেই বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত খরচে সড়কপথকে বেছে নিচ্ছেন। যাত্রীদের অভিযোগ, দেশের অন্যান্য রুটে আধুনিক কোচ সংযোজন করা হলেও ঢাকা-সরিষাবাড়ী রুটটি বরাবরের মতোই অবহেলিত রয়ে গেছে।

ছবি: এশিয়া পোস্ট
ছবি: এশিয়া পোস্ট

আব্দুল আজিজ নামে এক যাত্রী বলেন, রেলের ভাড়া দফায় দফায় বাড়ানো হলেও সেবার মানের কোনো উন্নতি হয়নি। অন্য রুটের যাত্রীরা আধুনিক কোচে যাতায়াতের সুযোগ পেলেও এই রুটের যাত্রীদের বছরের পর বছর পুরোনো লক্কড়-ঝক্কড় কোচে চলতে হচ্ছে, যা এক ধরনের বৈষম্য।

হাবিবুর রহমান নামে আরেক যাত্রী জানান, ট্রেনে উঠলে এটিকে আন্তঃনগর নয়, বরং কোনো পরিত্যক্ত লোকাল ট্রেন মনে হয়। ভাঙা আসন আর অসহনীয় গরমে এখানে যাত্রা করা অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক।

সরিষাবাড়ী নাগরিক সমাজের সভাপতি মো. ইউসূফ আলী বলেন, রেলওয়ে একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান হলেও ঢাকা-সরিষাবাড়ী রুটের যাত্রীদের সঙ্গে বছরের পর বছর অন্যায় করা হচ্ছে। আমাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে অনেকবার আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে ট্রেনের কোনো পরিবর্তন আসেনি। অবিলম্বে জরাজীর্ণ কোচগুলো বদলে আধুনিক ও মানসম্মত কোচ সংযোজন করা না হলে আমরা বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি দিতে বাধ্য হব।

জামালপুর রেল জংশনের স্টেশন মাস্টার আক্তারুজ্জামান বলেন, যাত্রী ভোগান্তির বিষয়টি তারা অবগত আছেন। তবে এই দুর্ভোগ নিরসনে ও নতুন কোচ সংযোজনের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের প্রয়োজন।