Advertisement

বিড়ালছানা দেওয়ার কথা বলে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার পর হত্যা, সবজি বিক্রেতার মৃত্যুদণ্ড

এশিয়া পোস্ট নিউজ, চট্টগ্রাম
বিড়ালছানা দেওয়ার কথা বলে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার পর হত্যা, সবজি বিক্রেতার মৃত্যুদণ্ড
রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন আসামি মো. রুবেল। ছবি: এশিয়া পোস্ট

চট্টগ্রামে তিন বছর আগে ১০ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টা, হত্যা এবং লাশ গুমের মামলায় মো. রুবেল নামে এক সবজি বিক্রেতাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

সোমবার (২০ জুলাই) দুপুরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ চট্টগ্রামের বিচারক মো. সাইফুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাকে আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠানো হয়। রুবেল নগরীর পাহাড়তলী এলাকার বাসিন্দা।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) মাহমুদুল আলম চৌধুরী জানান, শিশুটিকে হত্যার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় রুবেলকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া লাশ গুম ও ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের পৃথক ধারায় তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

আদালত ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালের ২১ মার্চ বিকেলে পাহাড়তলী এলাকার চতুর্থ শ্রেণির এক শিক্ষার্থী নিখোঁজ হয়। শিশুটির মা-বাবা পোশাক কারখানার শ্রমিক। সন্তান নিখোঁজের পর পরিবার থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে। পরে খোঁজ না পেয়ে মো. রুবেলকে আসামি করে আদালতে মামলা করে পরিবার। আদালতের নির্দেশে পাহাড়তলী থানা-পুলিশ মামলাটি নথিভুক্ত করে এবং রুবেলকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, ঘটনার কিছুদিন আগে শিশুটি তার মায়ের কাছে একটি বিড়ালছানা কিনে দেওয়ার আবদার করে। তখন শিশুটি জানায়, স্থানীয় সবজি বিক্রেতা রুবেল তাকে পরিচিত একজনের কাছ থেকে বিড়ালছানা এনে দেওয়ার কথা বলেছেন। নিখোঁজ হওয়ার দিনও সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, রুবেল শিশুটিকে নিজের সঙ্গে নিয়ে যাচ্ছেন।

পরে ঘটনাটি নিয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ছায়া তদন্ত শুরু করে। রুবেলকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিখোঁজের আট দিন পর পাহাড়তলী সাগরিকা বাই-লেনসংলগ্ন আলমতারা পুকুরপাড়ের একটি ডোবা থেকে শিশুটির বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করা হয়।

তদন্তকারী কর্মকর্তাদের মতে, বিড়ালছানা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে শিশুটিকে একটি ফাঁকা বাসায় নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেন রুবেল। শিশুটি চিৎকার করে বের হতে চাইলে এবং বিষয়টি পরিবারকে জানিয়ে দেওয়ার কথা বললে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। ঘটনার রাতে লাশ বস্তায় ভরে ডোবায় ফেলে দেওয়া হয়। সন্দেহ এড়াতে রুবেল নিজেও পরিবারের সঙ্গে শিশুটিকে খোঁজার ভান করেন।

গ্রেপ্তারের পর রুবেল আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরে সিআইডির ফরেনসিক পরীক্ষায় সিসিটিভি ফুটেজের সত্যতাও নিশ্চিত করা হয়। মোট ২৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত আজ এ রায় দেন।