ক্যালেন্ডার আনারস চাষে হতাশ কৃষকরা, জলডুগিতে আশার আলো

টাঙ্গাইলের মধুপুরে চলতি মৌসুমে ক্যালেন্ডার জাতের আনারস চাষে আশানুরূপ সাফল্য পাচ্ছেন না কৃষকরা। উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, বাজারে কম চাহিদা এবং ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় অনেক কৃষক লোকসানের আশঙ্কা করছেন। তবে তুলনামূলক কম সময়ে ফলন এবং বেশি দামের কারণে জলডুগি জাতের আনারস চাষে সাফল্য দেখছেন চাষিরা। সঠিক পরিচর্যা ও সংরক্ষণে হিমাগার ব্যবস্থা থাকলে দেশের অর্থনৈতিক চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানি করা যাবে।
ক্যালেন্ডার জাতের আনারস সংগ্রহের উপযোগী হতে প্রায় ১৮ মাস সময় লাগে। অন্যদিকে জলডুগি জাতের আনারস মাত্র ৮ মাসেই বাজারজাত করা সম্ভব। এ ছাড়া বাজারে জলডুগি আনারসের দাম ক্যালেন্ডার জাতের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ হওয়ায় এ জাতের চাষে লাভের সম্ভাবনাও বেশি। তাছাড়া জলডুগি আনারস মিষ্টি ও সুস্বাদু হওয়ায় চাহিদা বেশি। এই আনারস মধুপুর জলছত্র বাজারে তোলা হয়। পরে সেখান থেকে ট্রাক ও পিকআপে করে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হয়।
কৃষক শাহআলম জানান, বর্তমানে বাজারে আম, কাঁঠাল, লিচুসহ বিভিন্ন মৌসুমি ফলের সরবরাহ বেশি থাকায় আনারসের চাহিদা কমে গেছে। ফলে কাঙ্ক্ষিত দাম পাচ্ছেন না তারা। অনেক ক্ষেত্রেই উৎপাদন খরচ তুলতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। ক্যালেন্ডার জাতের আনারস লাভ কম হওয়ায় জলডুগি চাষ বেশি।
কৃষক আকবর আলী জানান, মধুপুরে আনারস সংরক্ষণের জন্য আধুনিক হিমাগার বা কোল্ড স্টোরেজ ব্যবস্থা থাকলে ফল দ্রুত বিক্রির চাপ কমতো। এতে কৃষকরা কিছুদিন সংরক্ষণ করে বাজার পরিস্থিতি অনুকূলে এলে বিক্রি করতে পারতেন এবং ন্যায্যমূল্য পেতেন।
কৃষক হোসাইন সাঈদী বলেন, টাঙ্গাইলের আনারস খেতে অত্যন্ত সুস্বাদু। বিশেষ করে জলডুগি জাতের আনারস অনেক বেশি মিষ্টি হওয়ায় বাজারে এর চাহিদাও বেশি। সরকার যদি সহজ শর্তে আমাদের জন্য প্রণোদনা ও ঋণের ব্যবস্থা করে, তাহলে আমরা আনারস চাষের পরিধি আরও বাড়াতে পারব। এতে কৃষকরা যেমন লাভবান হবেন, তেমনি দেশের ফল উৎপাদনও বৃদ্ধি পাবে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক শোয়েব মাহমুদ বলেন, টাঙ্গাইল জেলায় এ বছরে সাত হাজার ৭৭৩ হেক্টর জমিতে আনারস চাষ হচ্ছে। তবে চাষিরা ক্যালেন্ডার থেকে জলডুগি আনারস চাষে আগ্রহী হচ্ছে। মূলত ক্যালেন্ডার আনারস উপযোগী হতে ১৮ মাস সময় লাগে, আর জলডুগি ৮ থেকে ১০ মাস সময় লাগে। একইসঙ্গে জলডুগির দাম দাম তুলনামূলক বেশি হওয়ায় কৃষকরা এ জাতের আনারস চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, হিমাগার না থাকায় সংরক্ষণের অভাবে ফল নষ্ট হচ্ছে। আমরা চেষ্টা করছি যাতে হিমাগার ব্যবস্থা করা য়ায়। হিমাগার ব্যবস্থা থাকলে কৃষকরা ফল সংরক্ষণ করতে পারবে ও পরে ন্যায্যমূল্যে বিক্রি করে লাভবান হতে পারবে।
