ফেনীতে সাপে কাটা রোগীর চিকিৎসায় অবহেলা, ভর্তির আধা ঘণ্টা পর মৃত্যু

ফেনী সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে সাপে কাটা এক রোগীর চিকিৎসায় অবহেলার কারণে মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। স্বজনদের দাবি, পর্যাপ্ত চিকিৎসা প্রদান এবং জরুরি ‘অ্যান্টিভেনম’ না দিয়ে রোগীকে মেঝেতে ফেলে রাখার ফলে বিষক্রিয়ায় তার মৃত্যু হয়েছে।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) ভোরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই নারী মারা যান। ওইদিন জুমার নামাজের পর তাকে দাফন করা হয়। নিহত নাসিমা আক্তার (৪৫) ফেনী সদর উপজেলার বড় ধলিয়া গ্রামের আবদুল হামিদ মৌলভী বাড়ির আহমদ করিমের স্ত্রী। তিনি এক ছেলে ও এক মেয়ের জননী।
স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে বাইরে বৃষ্টির পানি সংগ্রহ করতে ঘরের দরজা খোলেন নাসিমা আক্তার। এ সময় অন্ধকারে দরজার বাইরে পা রাখতেই তাকে একটি বিষধর সাপ কামড় দেয়। প্রথমে বিষয়টি সাধারণ মনে করে গুরুত্ব না দিলেও কিছুক্ষণের মধ্যে শরীরে বিষ ছড়িয়ে পড়লে তিনি ছটফট করতে থাকেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি দেখে দ্রুত তাকে ফেনী সদর হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।
রোগীর স্বামী আহমদ করিম অভিযোগ করেন, হাসপাতালে নেওয়ার পর ডিউটি ডাক্তার চিরঞ্জিত সরকার সাপে কাটার লক্ষণগুলো ঠিকভাবে না দেখেই রোগীকে ৬ তলার মেডিসিন বিভাগে ভর্তির নির্দেশ দেন। আমি বারবার তাকে সাপে কামড় দেওয়ার বিষয়টি বললেও রোগীকে সাপে কাটার ওষুধ দেওয়া হয়নি। অনেক কাকুতি-মিনতি করলেও ডাক্তার আমার কথায় কান দেননি। ওয়ার্ডে একজন নার্স ছাড়া কেউ ছিলেন না। আমি একটি বেডের জন্য ছোটাছুটি করেও তা পাইনি। মেডিসিন বিভাগে নেওয়ার পর সেখানকার সিনিয়র স্টাফ নার্স আলো রানী কর্মকার জুনিয়র নার্সদের দিয়ে কেবল একটি স্যালাইন পুশ করিয়ে রোগীকে মেঝেতে শুইয়ে রাখেন। সঠিক চিকিৎসা না পেয়ে বিষক্রিয়ায় ছটফট করতে করতেই ভর্তির আধা ঘণ্টার মধ্যে নাসিমা মারা যান। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
জরুরি বিভাগের সিনিয়র স্টাফ ব্রাদার আবদুস সাত্তার জানান, রাত ৩টা ২৫ মিনিটে অচেনা সাপের কামড়ে এক নারী হাসপাতালে এলে ডিউটি ডাক্তার তাকে ৬ তলার মেডিসিন বিভাগে ভর্তি দেন, যা রেজিস্ট্রারে উল্লেখ রয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত চিকিৎসক চিরঞ্জিত সরকার এশিয়া পোস্টকে জানান, রোগী আসার পর জরুরি বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক হিসেবে আমি তাকে পর্যবেক্ষণের জন্য ওয়ার্ডে ভর্তি দিয়েছি। বাকি চিকিৎসা ওয়ার্ডের চিকিৎসক দেখবেন, কিন্তু এখানে আমাকে এককভাবে দায়ী করা হচ্ছে। সাধারণত পর্যবেক্ষণের পরেই রোগীর শারীরিক অবস্থা বুঝে অ্যান্টিভেনম দেওয়া হয়। আমার মনে হচ্ছে, সাপে কাটার পর রোগী অত্যাধিক আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন, যার ফলে ‘প্যানিক অ্যাটাক’-এ তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।
ফেনী সদর হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোবারক হোসেন দুলাল এশিয়া পোস্টকে জানান, বিষয়টি সম্পর্কে আমরা অবগত হয়েছি। এ ঘটনায় কারও কোনো গাফিলতি ছিল কিনা তা খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


