শেষ দিনে রাঙামাটির হাটে গরু সংকট

রাঙামাটির একমাত্র পশুর হাটে কোরবানির ঈদের আগে শেষ দিনে গরুর সংকট দেখা দিয়েছে।
বুধবার (২৭ মে) সকাল থেকে গরু কিনতে এসে অনেক ক্রেতাকে হতাশ হয়ে ফিরতে দেখা গেছে।
হাট ঘুরে দেখা যায়, কয়েক দিন ধরেই ক্রেতা-বিক্রেতাদের উপস্থিতিতে জমজমাট ছিল হাট। তবে শেষ দিনে এসে গরুর সংখ্যা অনেক কমে গেছে। যারা শেষ মুহূর্তে গরু কেনার পরিকল্পনা করেছিলেন, তাদের অনেকেই পছন্দের গরু খুঁজে পাচ্ছেন না।
ক্রেতাদের অভিযোগ, প্রতিদিন শত শত গরু ট্রাকে করে জেলার বাইরে পাঠানো হচ্ছে। এতে স্থানীয় বাজারে গরুর সংকট তৈরি হয়েছে। সংকটের কারণে অবশিষ্ট গরুর দামও তুলনামূলক বেশি চাওয়া হচ্ছে।
হাটের সবচেয়ে বড় দুটি গরু-‘রয়েল’ ও ‘কালা পাহাড়’-ইতোমধ্যে বিক্রি হয়ে গেছে। হাটের ইজারাদার জানান, গরু দুটি সাড়ে তিন লাখ টাকার বেশি দামে বিক্রি হয়েছে।
গরু কিনতে আসা মো. নাছের উদ্দিন বলেন, শহরে গরু পালন করা কঠিন হওয়ায় তিনি প্রতি বছর শেষ দিকে গরু কেনেন। কিন্তু এবার হাটে এসে দেখছেন, গরু প্রায় নেই বললেই চলে। তার অভিযোগ, প্রতিদিন ট্রাকে করে গরু বাইরে চলে গেলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না।
বিক্রেতা মো. সামশুল আলম বলেন, তিনি এবার হাটে ৬০টি গরু এনেছিলেন। গত রাতের মধ্যেই সব গরু বিক্রি হয়ে গেছে। বিক্রি ভালো হওয়ায় তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন।
রাঙ্গাপানি থেকে গরু বিক্রি করতে আসা সুভাষ চাকমা জানান, তিনি তিনটি গরু এনেছিলেন। এর মধ্যে দুটি বিক্রি হয়েছে, আরেকটির জন্য ক্রেতা থাকলেও কাঙ্ক্ষিত দাম মিলছে না।
হাটের ইজারাদার রবিউল হোসেন বাবলু বলেন, জেলার বাইরে গরু চলে যাওয়ায় সাময়িকভাবে কিছুটা সংকট তৈরি হয়েছে। তবে বিকেলের দিকে আরও গরু আসবে বলে তিনি আশা করছেন। তিনি ক্রেতাদের ধৈর্য ধরার অনুরোধ জানান।
রাঙামাটি জেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের তথ্য অনুযায়ী, কোরবানির ঈদ উপলক্ষে জেলার ১০ উপজেলায় মোট ১৯টি পশুর হাট বসেছে। জেলায় কোরবানির জন্য গরুর চাহিদা প্রায় ৪৪ হাজার হলেও প্রস্তুত রয়েছে প্রায় ৫৩ হাজার গরু।
