logo
Advertisement

ফরিদপুরে গ্রাম্য আধিপত্য নিয়ে সংঘর্ষ, শিশুসহ আহত ১৫

এশিয়া পোস্ট নিউজ
এশিয়া পোস্ট নিউজ,ফরিদপুর
ফরিদপুরে গ্রাম্য আধিপত্য নিয়ে সংঘর্ষ, শিশুসহ আহত ১৫
ফরিদপুরের নগরকান্দা থানা। ছবি: এশিয়া পোস্ট

ফরিদপুরের নগরকান্দায় গ্রাম্য আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ববিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে শিশুসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। এ সময় কয়েকটি বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগও উঠেছে।

Advertisement

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার তালমা ইউনিয়নের গহেরপুর গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে এলাকায় উত্তেজনা থাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

স্থানীয়রা জানান, গহেরপুর গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে শিকদার ও মাতুব্বর গ্রুপের মধ্যে গ্রাম্য আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিরোধ চলে আসছিল। বিভিন্ন সময় এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিলেও বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।

মাতুব্বর গ্রুপের দাবি, সন্ধ্যার দিকে স্থানীয় এক ইঞ্জিনিয়ারের বাগানের কাছে পূর্ববিরোধের জেরে মিরাজ শিকদারের ওপর হামলা চালানো হয়। মোসলেম শিকদারের ছেলে উসমান শিকদার ও স্থানীয় বিএনপি নেতা খাইরুজ্জামানের নেতৃত্বে কয়েকজন এ হামলা চালান।

পরে শিকদার গ্রুপের লোকজন মাতুব্বর গ্রুপের কয়েকটি বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়।

এ ঘটনায় মাতুব্বর গ্রুপের মিরাজ শেখ (৫২), মুরাদ শেখ (৫০), ফরহাদ শেখ (৪৮), ১০ বছরের শিশু আজিম শেখ, রনি শেখ (১৭), সাথী বেগম (৩৬) ও রেজাউল মাতুব্বরসহ (৪৫) অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। তাদের ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে শিকদার গ্রুপ। তাদের দাবি, মাতুব্বর ও সরদার গ্রুপের লোকজন পরিকল্পিতভাবে তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। এতে তাদের পক্ষের অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন।

আহতদের মধ্যে রয়েছেন ফরিদ শিকদার (৪৫), রাকিব শিকদার (২৫), সালমান শিকদার (২০), হামিদুল শিকদার (২৪) ও সারোয়ার শিকদার (৬০)। তাদের ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও নগরকান্দা উপজেলা হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

সংঘর্ষের খবর পেয়ে নগরকান্দা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসুল সামদানী আজাদ বলেন, সংঘর্ষের পর এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ঘটনার পেছনের কারণ এবং হামলায় কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।