মেঘনার ঢেউয়ের ছন্দে ‘স্বল্প খরচে স্বর্গীয় ভ্রমণ’

লক্ষ্মীপুরের উপকূলীয় জনপদ রায়পুর, রামগতি ও কমলনগর উপজেলা। সদর উপজেলার কিছু অংশও উপকূলীয় এলাকা। মেঘনা নদীর কোলঘেঁষে গড়ে ওঠা এই চারটি জনপদে প্রকৃতি যেন উদার হাতে বিলিয়েছে সৌন্দর্য। এই নদীর ঢেউয়ের ছন্দের তালে দর্শনার্থীরা খুঁজে পান প্রশান্তি।
সরেজমিনে দেখা যায়, সদর উপজেলার মজু চৌধুরীর হাট ও রায়পুরের উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের আলতাফ মাস্টারঘাট, হায়দরগঞ্জ এলাকার সাজু মোল্লার ঘাট মেঘনার তীরঘেঁষে। এসব এলাকার ভাঙন রোধে নির্মিত শক্ত বাঁধ এখন শুধু সুরক্ষাই দিচ্ছে না, তৈরি করেছে নতুন এক প্রাকৃতিক বিনোদন কেন্দ্র।
বিকেল গড়ালে পশ্চিম আকাশে রক্তিম সূর্যাস্ত আর নদীর ঢেউ মিলিয়ে তৈরি হয় এক অপার্থিব দৃশ্যপট। সোনালি আলো নদীর জলে প্রতিফলিত হয়ে সৃষ্টি করে মনোমুগ্ধকর পরিবেশ। প্রকৃতির এমন রূপ কাছ থেকে দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন হাজারো মানুষ। ঈদের ছুটিতে এসব স্পটে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত মানুষের উপচেপড়া ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো।
নদীর পাড়ে জেগে ওঠা নতুন বালুর বেলাভূমি, ঢেউয়ের ছন্দ, জলের মিষ্টি শব্দ—সব মিলিয়ে দর্শনার্থীরা খুঁজে পান অন্যরকম এক প্রশান্তি। বাতাসের দোলায় শরীর ও মন জুড়িয়ে যায় মুহূর্তেই। অনেকের কাছেই এটি এখন ‘স্বল্প খরচে স্বর্গীয় ভ্রমণ’।
দর্শনার্থীরা বলেন, জেলা শহরে ভালো কোনো বিনোদনকেন্দ্র নেই। সিনেমা হলগুলোও বহু বছর ধরে বন্ধ। শহরের একঘেয়ে জীবন থেকে বের হয়ে নদীর পাড়ে এসে দারুণ স্বস্তি লাগছে। এখানকার প্রকৃতি সত্যিই মন ভরিয়ে দেয়।
রামগতি-কমলনগর বাঁচাও মঞ্চের আহ্বায়ক আবদুস সাত্তার পালোয়ান বলেন, গত ৩০ বছরে মেঘনা উপকূলের ভাঙনে বিলীন হয়েছে হাজার হাজার মানুষের বাড়ি ঘর। সেই উত্তাল মেঘনা আজ অভিশাপ থেকে আশীর্বাদে পরিণত হয়েছে। হাজার হাজার মানুষ ঈদের আনন্দ পেতে ছুটে আসছে। এ এক অন্যরকম গল্প। মেঘনা উপকূল এখন পর্যটনের একটি বিশাল অংশ।
জেলা প্রশাসক এসএম মেহেদী হাসান বলেন, চারটি উপজেলার মানুষের কাছে মেঘনাপাড় এখন অন্যতম বিনোদনকেন্দ্র। ঈদ উপলক্ষে দর্শনার্থীর সংখ্যা বেড়েছে কয়েকগুণ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন রয়েছে। ট্রলার ও স্পিডবোটে ভ্রমণের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।