গ্যাস পেতে মধ্যরাতেও অপেক্ষা, সড়কে হাজারো গাড়ির সারি

দিনভর অপেক্ষার পরও মেলেনি গ্যাস। রাত গভীর হলেও কাটেনি ভোগান্তি। বরং গ্যাসের চাপ কিছুটা বেড়েছে, দেওয়া হচ্ছে গ্যাস এমন খবর ছড়িয়ে পড়তেই জামালপুরের একমাত্র সিএনজি ফিলিং স্টেশনে হুমড়ি খেয়ে পড়েছেন শত শত চালক। ফলে মধ্যরাতে শহরের বাইপাস এলাকায় তৈরি হয়েছে সিএনজি ও ব্যক্তিগত গাড়ির অন্তত এক কিলোমিটার দীর্ঘ সারি।
রোববার (১৬ আগস্ট) দিবাগত রাত ১টার দিকে শহরের জাবেদ ফিলিং স্টেশন ও সংলগ্ন বাইপাস সড়ক ঘুরে দেখা যায়, গ্যাস নেওয়ার আশায় পাম্পের দুই পাশের সড়কেই সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছে শত শত যানবাহন।
চালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জামালপুরে সিএনজিচালিত যানবাহনের একমাত্র ভরসা জাবেদ ফিলিং স্টেশন। প্রায় ৩ হাজার নিবন্ধিত সিএনজির পাশাপাশি বাইরে থেকে আসা যানবাহন মিলিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৫ হাজার গাড়ি এই পাম্পের ওপর নির্ভরশীল।
কয়েক দিন ধরে গ্যাস সংকটে চালকদের আয়-রোজগার প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। রাতে পাম্পে গ্যাস সরবরাহ শুরু হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে চালকেরা ছুটে এসে লাইনে দাঁড়ান। অল্প সময়ের মধ্যেই ফিলিং স্টেশন এলাকা ছাড়িয়ে বাইপাস সড়কজুড়ে প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ সিএনজি ও প্রাইভেট কারের সারি তৈরি হয়।
সিএনজি চালকরা জানান, দিনের বেলা গ্যাস না পেয়ে রাতে শেষ ভরসা নিয়ে পাম্পে ছুটে এসেছেন। কিন্তু দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত গ্যাস পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে তারা শঙ্কায় রয়েছেন।
সিএনজি নিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা চালক আজাদ মিয়া বলেন, ‘সারাদিন লাইনে থেকেও গ্যাস পাইনি। গ্যাস দেওয়া বন্ধ আছিলো। কোনো আয়-রোজগারও হয়নি। রাতে খবর পাইলাম গ্যাস দেওয়া হইতাছে। পরে গাড়ি নিয়ে তাড়াতাড়ি আসি। এখন লাইনে দাঁড়ালাম কতোক্ষণ দেয় দেখি। যদি গ্যাস না পায় তাহলে কালও গাড়ি চালাতে পারব না।’
আরেক চালক রাজু মিয়া বলেন, ‘গ্যাসের জন্য এখন ঘুমও হারাম হয়ে গেছে। রাত জেগে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। তারপরও নিশ্চিত না যে গ্যাস পাবো কিনা।’
জাবেদ ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার আতিক রহমান বাবর বলেন, ‘গ্যাসের এই সংকটটা শুধু আমাদের এখানে না। সারা দেশে এই সংকট। গ্রিড থেকে গ্যাস আমরা যেভাবে পাই, সঙ্গে সঙ্গেই তা গ্রাহকদের দেওয়ার চেষ্টা করি।’



