নিষেধাজ্ঞার ৭ দিনেও ভিজিএফের চাল পাননি জেলেরা

ইলিশসহ সব ধরনের মাছ শিকারের ওপর ভোলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে চলছে দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা। ফলে ভোলার সাত উপজেলার প্রায় ৩ লাখ জেলে কর্মহীন হয়ে পড়েছে । তবে নিষেধাজ্ঞার ৭ দিন পার হয়ে গেলেও এখনও জেলেদের কাছে পৌঁছেনি জাটকা আহরণ থেকে বিরত থাকা জেলে পরিবারের জীবনযাত্রা নির্বাহের জন্য মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ভিজিএফের চাল। আর ওই চাল না পেয়ে রোজার মধ্যে কষ্ট ও দুশ্চিন্তায় কাটছে তাদের দিন। অন্যদিকে ভিজিএফের চাল পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন জেলেরা।
শুক্রবার (৬ মার্চ) সকালে ভোলার শিবপুর ইউনিয়নের ভোলার খাল ও ধনিয়া ইউনিয়নের তুলাতুলি মেঘনা নদীর পার সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, মেঘনা নদীতে ক'দিন আগেও ট্রলার, নৌকা ও জালসহ মাছ শিকারের উপকরণ নিয়ে দাপিয়ে বেড়াত জেলেরা। নিষেধাজ্ঞার কারণে নদী ও মৎস্য ঘাটে সুনসান নীরবতা চলছে। ইলিশসহ সব ধরনের মাছ শিকারের দীর্ঘ দুই মাসের নিষেধাজ্ঞার কারণে কর্মহীন হয়েছে জেলার সাত উপজেলার প্রায় ৩ লাখ জেলে। ইলিশের অভয়াশ্রমের কারণে ভোলার ১৯০ কিলোমিটার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদী ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে এই নিষেধাজ্ঞা। তাই কেউ কেউ নদীর তীরে বসে জাল মেরামত করছেন। আবার কেউ কেউ ট্রলার মেরামতের কাজে সময় কাটাচ্ছেন। কিন্তু কারোই নেই কোনো আয় রোজগার।
শিবপুর ইউনিয়নের শান্তিরহাট এলাকার জেলে মো. সাদ্দাম মাঝি জানান, মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞার আজ সাত দিন চলছে। আমরা জেলে এখন পর্যন্ত নদীতে গিয়ে মাছ ধরি নাই। কিন্তু সরকারিভাবে চাল এখনও আমরা পাই নাই।
একই এলাকার মো. শাজাহান মাঝি ও মাকসুদ মাঝি জানান, সাত চলে গেছে এখনও চাল আমাদের মাঝে বিতরণ করা হয়নি। আমাদের তো কাজ-কাম নাই রোজগারও নাই, এখন খামু কি। রমজান মাস চলছে তার মধ্যে মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা চলছে। এখন তো আমাদের অনেক কষ্টে দিন কাটাতে হচ্ছে।
শিবপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের জেলে মো. রাকিব মাঝি জানান, সরকারি অভিযান মেনেই তারা নদীতে যাচ্ছেন না। কিন্তু এনজিও থেকে কিস্তি আদায় বন্ধ হয় নাই। সমিতির লোকজন সকাল-বিকাল আসা কিস্তির টাকা নিতে। আমরা কী করব, আমাদের তো কোনো আয় রোজগার নেই। এখনও যদি দুই মাসের জন্য কিস্তি আদায় বন্ধ না হয় তাহলে তো আমরা কিস্তি পরিশোধের জন্য নদীতে গিয়ে মাছ ধরতে হবে।
ধনিয়া ইউনিয়নের তুলাতুলি এলাকার জেলে মো. সুমন মাঝি ও শাকিল মাঝি জানান, তারা প্রায় ১০-১২ বছর ধরে নদীতে মাছ শিকার করে জীবিকা পরিচালনা করছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত তাদের জেলে কার্ড হয়নি। দুইবার করে জেলে কার্ডের জন্য আইডি কার্ড জমা দিয়েছি। এখনও কার্ড হয়নি। অথচ জেলে না হয়েও জেলে কার্ড করছে। তারা জেলেদের চালও পায়। কিন্তু প্রকৃত জেলে হয়ে আমাদের জেলে কার্ড নাই।
একই এলাকার জেলে আরিফ মাঝি ও হাসান মাঝি জানান, আমরা সরকারের কাছে আকুল আবেদন জানাই যেন আমাদের নিষেধাজ্ঞার চাল দ্রুত বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি যাদের এখনও জেলে নিবন্ধন হয়নি তাদের যাতে দ্রুত নিবন্ধনের আওতায় নিয়ে আসে। আর যারা জেলে না হয়ে জেলে কার্ড করে চাল নিচ্ছে তাদের কার্ড যারা বাদ করে দেয়।
ভোলা জেলা কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন জানান, জাটকা সংরক্ষণ কার্যক্রমের জন্য ফেব্রুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত জাটকা আহরণ বিরত থাকা জেলে পরিবারের জীবনযাত্রা নির্বাহের জন্য মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ভিজিএফ এর চাল আগামী সপ্তাহের মধ্যে বিতরণ শুরু হবে। এই চার মাস প্রতি জেলে ৪০ কেজি করে মোট ১৬০ কেজি জাল পাবেন। আর জেলেদের নিবন্ধন হালনাগাদ চলছে। এতে অনিবন্ধিত জেলেদের বাদ দিয়ে প্রকৃত জেলেদের নিবন্ধনের আওতায় নিয়ে আসা হবে। এ ছাড়া নিষেধাজ্ঞার দুই মাস কিস্তি বন্ধের বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, জেলায় সাত উপজেলার নিবন্ধিত জেলের সংখ্যাও ১ লাখ ৬৭ হাজার ৯৭০ জন জেলের মধ্য এ বছর জাটকা আহরণ বিরত থাকা জেলে পরিবারের জীবনযাত্রা নির্বাহের জন্য মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ভিজিএফের চাল পাবেন প্রায় ৯০ হাজার ২০০ জন জেলে।