logo
Advertisement

ব্যবসায়ীকে জিম্মি করে ৩ লাখ টাকা আদায়, যুবদলকর্মীসহ গ্রেপ্তার ২

এশিয়া পোস্ট নিউজ
এশিয়া পোস্ট নিউজ
পটুয়াখালী, বরিশাল
ব্যবসায়ীকে জিম্মি করে ৩ লাখ টাকা আদায়, যুবদলকর্মীসহ গ্রেপ্তার ২
গ্রেপ্তার সোহাগ মৃধা ও সোহাগ হাওলাদার। ছবি : এশিয়া পোস্ট

পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় ভাঙ্গারি মালামাল কেনার কথা বলে এক ব্যবসায়ীকে নির্জন স্থানে ডেকে নিয়ে জিম্মি, মারধর ও ভয়ভীতি দেখিয়ে ৩ লাখ ২৩ হাজার ৬০০ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী স্থানীয় বিএনপি ও যুবদল কর্মীসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। অভিযান চালিয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে ধাওয়া ইউনিয়ন যুবদল কর্মী মো. সোহাগ মৃধা ও মো. সোহাগ হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করে ভাণ্ডারিয়া থানা-পুলিশ।

মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার শিরোখালী গ্রামের বাসিন্দা ভাঙ্গারি ব্যবসায়ী আসাদুল ইসলাম গত ২ সেপ্টেম্বর সকালে ব্যবসা সংক্রান্ত কাজে ভাণ্ডারিয়া পৌরসভার ওভারব্রিজ এলাকায় যান। সেখান থেকে মালামাল দেখানোর কথা বলে চক্রের সদস্য সাগর তাকে ধাওয়া এলাকার ‘গোড়াখাল’ সংলগ্ন একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে পূর্ব থেকে ওত পেতে থাকা ৫ নম্বর ধাওয়া ইউনিয়ন বিএনপির ৩ নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান পলাশ কাজী, সাবেক ভাণ্ডারিয়া উপজেলা বিএনপির সদস্য মশিউর রহমান টিটু হাওলাদার, ধাওয়া ইউনিয়ন যুবদল কর্মী (কথিত যুবদল নেতা) মো. রুবেল হাওলাদার, মো. সোহাগ মৃধাসহ স্থানীয় অরুণ বৈরাগী, মো. সোহাগ হাওলাদার, সুকান্ত, সুমন ও সঞ্জয়সহ কয়েকজন তাঁকে ঘিরে ফেলেন বলে অভিযোগ করেন আসাদুল।

পরবর্তী সময়ে তাকে স্থানীয় মশিউর রহমান টিটুর বাড়িতে আটকে রেখে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। সেখানে জিম্মি থাকা অবস্থায় ব্যবসায়ীর মোবাইল কেড়ে নিয়ে ভুয়া ও অবৈধ মালামালের ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। একপর্যায়ে জোরপূর্বক এটিএম কার্ড ও পিন নম্বর আদায় করে এটিএম বুথ থেকে ১ লাখ ১০ হাজার টাকা, মোবাইল ব্যাংকিং ও ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে আরও ১ লাখ ৮৯ হাজার৬০০ টাকা এবং নগদ ২২ হাজার টাকাসহ মোট ৩ লাখ ২৩ হাজার ৬০০ টাকা ও একটি মূল্যবান স্মার্টফোন হাতিয়ে নেওয়া হয়।

ঘটনার পর মুক্ত হয়ে প্রথমে স্থানীয় থানায় বিষয়টি জানান আসাদুল। পরে পিরোজপুরের পুলিশ সুপার ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। পরবর্তী সময়ে এ ঘটনায় ভাণ্ডারিয়া থানায় মামলা করেন তিনি।

অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি। তারা আত্মগোপনে থাকায় তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

ভাণ্ডারিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক রত্নেশ্বর কুমার মন্ডল জানান, ব্যবসায়ীকে জিম্মি করে টাকা আদায়ের মামলায় অভিযুক্ত মো. সোহাগ মৃধা ও মো. সোহাগ হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তার ও আত্মসাৎ করা অর্থ উদ্ধারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।