এলাকার একটি হত্যাকাণ্ডে শিশুটিরও ঈদ আনন্দ থমকে গেল

চার বছরের শিশু মিনহা আক্তার সেতু মহাখুশি। বাবা নতুন জামা কিনে দিয়েছে। জামার দাম পড়েছে ১৫০০ টাকা। ঈদের দিন সে এটা পরবে। খেলার সাথীদের সঙ্গে নতুন জামা পরে ঈদ আনন্দ উপভোগ করবে। কিন্তু একটি হত্যার ঘটনায় সব কিছু থমকে গেছে।
এলাকায় একটি হত্যাতাণ্ডের জেরে মিনহার বাড়িতে দেওয়া আগুনে তার জামাটি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) রাতে মাদারীপুর পৌরশহরে ২ নম্বর ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে।
বুধবার (১১ মার্চ) দুপুরে বাড়িটিতে গিয়ে দেখা যায়, মেয়েকে কোলে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন মিনহার মা। তাদের থাকার ঘরটি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
মিনহার মা হেনা বেগম এশিয়া পোস্টকে বলেন, আমার স্বামী একজন শ্রমিক। কয়টাকা আর সে আয় করে। শখ করে মেয়েকে দামি জামা কিনে দিয়েছিলাম। এখন আমি কীভাবে মেয়েকে জামা কিনে দিব। সবার সন্তানরা নতুন জামা পরে ঈদ আনন্দ করবে। কিন্তু আমার মেয়ের সেই আনন্দ আর রইল না।
তিনি বলেন, একটি হত্যাকাণ্ড আমাদের জীবনে নেমে এসেছে দুর্ভিক্ষ। সবার জন্য ঈদ দুঃখের ভেলা হয়ে এসেছে। কোথায় থাকব, কীভাবে ঘর তুলব, কি খাব—কিছুই জানি না। মারামারি করে তারা, আমাদের গরিবের উপর আসে বিপদ।
ঘটনার সূত্রপাত যেভাবে
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে নতুন মাদারীপুর গ্রামের স্থানীয় সাবেক কাউন্সিলর মনিরুজ্জামান আক্তার হাওলাদার ও সদর উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি শাকিল মুন্সীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে এই বিরোধ মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। ২০২৫ সালের ২৩ মার্চ শ্রমিক দলের পাল্টাপাল্টি কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয় এবং শতাধিক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ওই সময় কুপিয়ে হত্যা করা হয় শাকিল মুন্সীকে।
শাকিল মুন্সী হত্যার পর সংঘাত আরও বাড়তে থাকে। মঙ্গলবার সকাল সাতটার দিকে মনিরুজ্জামান আক্তার হাওলাদারের সমর্থক আলমগীর হাওলাদারকে কুপিয়ে হত্যা করে প্রতিপক্ষ। হত্যাকাণ্ডের জের ধরে মঙ্গলবার রাতে হাসান মুন্সী পক্ষের লোকজনের বসতবাড়িতে হামলা হয়।
এ সময় অন্তত ২০টি বসতবাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়। এছাড়া জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লাবলু হাওলাদার ও হাসান মুন্সীর ঘরসহ অন্তত ২০টি বসতবাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কাজ শুরু করেন পুলিশ, সেনাবাহিনী, র্যাব ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। তবে ইট ও গাছ ফেলে বিভিন্ন স্থানে রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ায় ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বেগ পোহাতে হয়।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন পুলিশের ঢাকা রেঞ্জ ডিআইজির
বুধবার দুপুরে পুলিশের ঢাকা রেঞ্জ ডিআইজি (উপমহাপরিদর্শক) রেজাউল করিম মল্লিক রেজা ঘটনাস্থল পরিদর্শনকালে বলেন, এসব কর্মকাণ্ডে যারা জড়িত তাদের ছাড় দেওয়া হবে না।
তিনি বলেন, হত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে। পুলিশের অভিযান চলমান আছে। এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে পুলিশ কাজ করছে। টহল বাড়ানো হয়েছে।