কুষ্টিয়ায় আমির হামজার গাড়ি ভাঙচুর, জামায়াত-গণঅধিকার সংঘর্ষ
-a3586e.jpg)
কুষ্টিয়ায় গণঅধিকার পরিষদ ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এতে সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজার গাড়ি ভাঙচুরসহ উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
শনিবার (১৫ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টার দিকে শহরের ছয় রাস্তার মোড়ে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনার পর থেকে পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নূরকে নিয়ে সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজার বক্তব্যের প্রতিবাদে বিকেল সাড়ে ৫টায় শহরের ছয় রাস্তার মোড়ে বিক্ষোভ সমাবেশ করছিলেন দলটির নেতাকর্মীরা। সমাবেশ থেকে আমির হামজাকে ক্ষমা চাওয়ার জন্য ১২ ঘণ্টার সময়সীমা দেওয়া হয়।
সমাবেশ শেষ হওয়ার মুহূর্তে পুলিশি প্রটোকলে নিজ বাড়িতে যাওয়ার পথে এমপি আমির হামজার গাড়িবহর ছয় রাস্তার মোড়ে পৌঁছায়। এ সময় সেখানে আগে থেকেই অবস্থান নেওয়া জামায়াতের নেতাকর্মীদের সঙ্গে গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের উত্তেজনা তৈরি হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, এমপির গাড়িবহর সমাবেশস্থলের কাছাকাছি পৌঁছানোর পর একটি গাড়ি থেকে লাঠি হাতে কয়েকজন বেরিয়ে আসেন। এরপর দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে হাতাহাতি এবং পরে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শুরু হয়। একপর্যায়ে দুই পক্ষই পরস্পরের দিকে ইটপাটকেল ছুড়তে থাকে। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া চলে। এ সময় এমপির গাড়িতে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।
ঘটনাস্থলে কুষ্টিয়া জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) ফয়সাল মাহমুদসহ পুলিশের সদস্যরা গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। মাগরিবের আজানের সময় আবারও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

প্রত্যক্ষদর্শীরা আরও জানান, লাঠিসোঁটা হাতে জামায়াতের একদল নেতাকর্মী গণঅধিকার পরিষদের কার্যালয়ের দিকে গিয়ে হামলা চালান। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।
ঘটনার জন্য জামায়াতকে দায়ী করে গণঅধিকার পরিষদের কুষ্টিয়া জেলা সাধারণ সম্পাদক আব্দুল খালেক বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করছিলাম। সমাপনী বক্তব্যের সময় এমপির গাড়িবহর এলে জামায়াতের কর্মীরা উসকানিমূলক কথা বলে হামলা চালায়। পরে আমরা প্রতিহত করার চেষ্টা করি।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে এমপি আমির হামজার মুখপাত্র নাজমুল হোসাইন দাবি করেন, গণঅধিকার পরিষদের সদস্যরা সংসদ সদস্যের গাড়িতে অতর্কিত হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছেন। এতে তাদের ১০ থেকে ১২ জন আহত হয়েছেন।
কুষ্টিয়া জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) ফয়সাল মাহমুদ বলেন, বিকেল থেকেই ঘটনাস্থলে পুলিশ কঠোর অবস্থানে ছিল। এমপির গাড়িবহর ছয় রাস্তার মোড়ে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। পরে পুলিশ দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।



