শিশু রামিসার কবরের পাশে ৯০ বছর বয়সি মজিবরের অপলক অপেক্ষা

ধর্ষণের পর নির্মম হত্যার শিকার শিশু রামিসার (৮) দাফনের পরও থামেনি শোকের মাতম। পরিবারের সদস্যরা ঢাকায় ফিরে গেলেও মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে নাতনির কবরের পাশেই দাঁড়িয়ে আছেন তার ৯০ বছর বয়সি চাচাতো দাদা মজিবর রহমান মোল্লা।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, সদ্য খোঁড়া কবরের মাটি এখনও ভেজা। কবরের মাঝখানে লাগানো একটি সূর্যমুখী গাছ মাথা নুইয়ে আছে, যেন চারপাশের শোকের ভার বহন করছে। নীরব কবরস্থানে অপলক দৃষ্টিতে দাঁড়িয়ে থাকা বৃদ্ধ দাদার চোখেমুখে স্পষ্ট অসহায়ত্ব ও গভীর বেদনার ছাপ।
পারিবারিক সূত্র জানায়, বুধবার রাতে জানাজা শেষে রামিসাকে দাফন করা হয়। জানাজায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, আত্মীয়স্বজন এবং বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ অংশ নেন। দাফনের পর রামিসার বাবা-মা ঢাকায় ফিরে গেলেও কবরের পাশ ছাড়েননি তার চাচাতো দাদা মজিবর রহমান মোল্লা।
রামিসার চাচাতো ভাই রানা মোল্লা বলেন, রামিসাদের পরিবার স্থায়ীভাবে গ্রামে থাকে না। তার বাবা ঢাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। ঈদপার্বণে তারা গ্রামে আসতেন। রামিসা খুব চঞ্চল ও প্রাণবন্ত ছিল। বাড়িতে এলেই সবার সঙ্গে মিশে পুরো বাড়ি মাতিয়ে রাখত।
তিনি আরও বলেন, এমন নিষ্পাপ একটি শিশুকে যারা পাশবিক নির্যাতনের পর হত্যা করেছে, আমরা তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। প্রকাশ্যে কঠোর শাস্তির মাধ্যমে যেন ভবিষ্যতে কেউ এমন অপরাধ করার সাহস না পায়।
এদিকে এ ঘটনার প্রতিবাদ ও দ্রুত বিচারের দাবিতে বিভিন্ন সংগঠন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে জানাজার পর জামায়াতে ইসলামী সিরাজদিখান উপজেলা শাখা বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করেছে। একই দিন বিকেল ৫টায় জাতীয় পরিবেশ ও মানবাধিকার সংস্থা সিরাজদিখান বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করবে।
পরিবার জানায়, দুই বোনের মধ্যে রামিসাই ছিল ছোট। তার আকস্মিক ও নৃশংস মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোক। আর পুরো গ্রামজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে ক্ষোভ ও প্রতিবাদের সুর।
