অসুস্থ গরু জবাই, চার মণ মাংস মাটিতে পুঁতে নষ্ট

পঞ্চগড় সদর উপজেলায় চিকিৎসাধীন ও অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগকৃত একটি অসুস্থ গরু জবাইয়ের পর প্রায় চার মণ মাংস মাটিতে পুঁতে নষ্ট করেছে প্রাণিসম্পদ বিভাগ। ওষুধ প্রয়োগের নির্ধারিত প্রত্যাহারকাল (উইথড্রয়াল পিরিয়ড) শেষ না হওয়ায় এই মাংস মানুষের খাওয়ার উপযোগী ছিল না। জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি এড়াতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
সোমবার (২ নভেম্বর) ভোরে উপজেলার হাফিজাবাদ ইউনিয়নের খালপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
এর আগে গত ২৭ অক্টোবর থেকে গরুটি অসুস্থ ছিল এবং জেলা ও উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে সেটির চিকিৎসা চলছিল।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গরুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে এর মালিক ও খামারি সোহেল ইসলাম সেটিকে জবাই করেন। বিষয়টি জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. নূরুল ইসলাম ও ডা. মরিয়ম রহমানের নজরে এলে তারা তাৎক্ষণিকভাবে উপ-সহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আব্দুর রহিমকে ঘটনাস্থলে পাঠান। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পর অসুস্থ ও চিকিৎসাধীন পশুর এই মাংস মানুষের খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করা ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনা করে তা নষ্ট করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
পরে এফএসপি হাবিবুর রহমান এবং হাফিজাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের গ্রাম পুলিশ রবিউল ইসলামের উপস্থিতিতে মাংসগুলো গভীর গর্তে পুঁতে ফেলা হয়।
গরুর মালিক সোহেল ইসলাম বলেন, গরুটি কয়েক দিন ধরে অসুস্থ ছিল এবং চিকিৎসাধীন ছিল। গত রাতে হঠাৎ অবস্থার অবনতি হলে নিজের খাওয়ার জন্য সেটিকে জবাই করি; বিক্রির কোনো উদ্দেশ্য ছিল না।
স্থানীয় পশু চিকিৎসক ও এআই টেকনিশিয়ান তফিজুল ইসলাম জানান, গতকাল বিকালেও তিনি গরুটিকে স্যালাইন দিয়ে এসেছিলেন। আজ ভোরে গরুর মালিক তাকে ফোন করলেও জবাইয়ের বিষয়ে কোনো পরামর্শ নেননি।
স্থানীয় মাংস বিক্রেতা আব্দুল মালেক বলেন, সকাল ৬টার দিকে আমাকে ফোন করা হয়েছিল। তবে অসুস্থ গরু হওয়ায় আমি তা কিনতে রাজি হইনি। পরে শুনি মালিক নিজেই গরুটি জবাই করেছেন। এরপর আমার লোকজন গিয়ে গরুটির চামড়া ছাড়িয়ে দেন।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. নূরুল ইসলাম ও ডা. মরিয়ম রহমান বলেন, চিকিৎসাধীন থাকা এবং অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগের বিষয়টি বিবেচনা করে জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি এড়াতেই মাংসটি নষ্ট করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়, কোনো পশু অসুস্থ হলে, চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেলে বা জবাইয়ের প্রয়োজন দেখা দিলে মালিকদের অবশ্যই আগে প্রাণিসম্পদ বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। বিশেষ করে অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগ করা পশু জবাইয়ের ক্ষেত্রে ওষুধের নির্ধারিত প্রত্যাহারকাল অবশ্যই অনুসরণ করতে হবে। তা না হলে মাংসে ওষুধের অবশিষ্টাংশ থেকে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে, যা মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। অসুস্থ পশু জবাই করে নিজেদের খাওয়া বা বাজারে বিক্রি করা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে প্রাণিসম্পদ বিভাগ।
উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আব্দুর রহিম বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে গরুটির অসুস্থতা ও চিকিৎসার বিষয়টি যাচাই করি। চিকিৎসাধীন অবস্থায় পশূটিতে একাধিক ওষুধ ও অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগ করা হয়েছিল। প্রত্যাহারকাল শেষ হওয়ার আগে এই মাংস খাওয়া সম্পূর্ণ ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় সংশ্লিষ্টদের উপস্থিতিতে তা মাটিতে পুঁতে নষ্ট করা হয়।
