logo

শরীয়তপুরে পদ্মার তীররক্ষা বাঁধে ফাটল, নদীগর্ভে ২০ মিটার

শরীয়তপুরে পদ্মার তীররক্ষা বাঁধে ফাটল, নদীগর্ভে ২০ মিটার
পদ্মা নদীর তীররক্ষা বাঁধে ফাটলের খবরে নদীতীরবর্তী ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ছবি: এশিয়া পোস্ট

শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার সুরেশ্বর মাছ বাজার এলাকায় পদ্মা নদীর তীররক্ষা বাঁধে ভয়াবহ ফাটল দেখা দিয়েছে। এতে নদীতীরবর্তী ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বুধবার বাঁধের প্রায় ৫০ মিটার অংশে ফাটল দেখা দেয়। এরমধ্যে বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ২০ মিটার নদীতে তলিয়ে গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সুরেশ্বর মাছ বাজার এলাকাটি নদীতীরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ একটি বাণিজ্যিক কেন্দ্র। এখানে প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ী, জেলে ও সাধারণ মানুষের সমাগম ঘটে। বাঁধে ফাটল দেখা দেওয়ার পর থেকেই স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বাঁধের একটি অংশ নদীতে বিলীন হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে আতঙ্ক আরও বেড়ে যায়। বাঁধের বাকি অংশও ধসে পড়তে পারে—এমন আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা দোকানের মালামাল সরিয়ে নিতে শুরু করেন। অনেকেই নিজেদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও সম্পদ নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, গুরুত্বপূর্ণ এই বাঁধের আরও অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলে মাছ বাজারসহ আশপাশের জনবসতি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান হুমকির মুখে পড়তে পারে। তাই দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিয়ে বাঁধের ঝুঁকিপূর্ণ অংশ রক্ষার দাবি জানিয়েছেন তারা।

২০২৩ সালে নড়িয়া উপজেলার সুরেশ্বর মাছ বাজার থেকে জাজিরা উপজেলার বিলাসপুর পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ পদ্মা নদীর ডান তীররক্ষা বাঁধ নির্মাণ করে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড। এতে ব্যয় হয় প্রায় ১ হাজার ৪০৩ কোটি টাকা।

এদিকে ফাটলের খবর পেয়ে নড়িয়া উপজেলা প্রশাসন ও শরীয়তপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ক্ষতিগ্রস্ত অংশ রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলার উদ্যোগ নিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। শুক্রবার (২ অক্টোবর) সকাল থেকে ওই এলাকায় জিও ব্যাগ ডাম্পিং কার্যক্রম শুরু করার কথা জানিয়েছে সংস্থাটি।

শরীয়তপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মিল্টন হোসেন বলেন, বুধবার সুরেশ্বর মাছঘাট এলাকায় নদীতীররক্ষা বাঁধের প্রায় ৫০ মিটার অংশে ফাটল দেখা দেয়। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে ফাটল দেখা দেওয়া অংশের প্রায় ২০ মিটার নদীতে তলিয়ে যায়। খবর পাওয়ার পর আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। শুক্রবার সকাল থেকেই ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ডাম্পিং কার্যক্রম শুরু করা হবে।