Advertisement

পদ্মার ভাঙনে ছোট হচ্ছে রাজবাড়ীর মানচিত্র

এশিয়া পোস্ট নিউজ, রাজবাড়ী
পদ্মার ভাঙনে ছোট হচ্ছে রাজবাড়ীর মানচিত্র
ছবি: এশিয়া পোস্ট

বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই রাজবাড়ীর সদর উপজেলার পদ্মা নদীতীরবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকায় শুরু হয়েছে তীব্র নদীভাঙন। এতে একের পর এক কৃষিজমি, ফসলি ক্ষেত ও বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। ভাঙনের আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন মিজানপুর ইউনিয়নের নদীপাড়ের বাসিন্দারা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মিজানপুর ইউনিয়নের চর সেলিমপুর, বড়চর বেনীনগর, কালীতলা, মহাদেবপুর, চরজৌকুড়া ও রামচন্দ্রপুর এবং চন্দনী ইউনিয়নের ধাওয়াপাড়া ফেরিঘাট ও আশপাশের চরাঞ্চলে হঠাৎ করেই ভাঙন শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে কয়েকশ একর কৃষিজমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি।

এ বছর বর্ষা শুরুর আগেই নদীর তীব্র স্রোত ও ভাঙনে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে মিজানপুর ও চন্দনী ইউনিয়নের আরও বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে হারিয়ে যেতে পারে।

স্থানীয়রা জানান, গত কয়েক বছরে চরজৌকুড়া উচ্চ বিদ্যালয়, প্রাথমিক বিদ্যালয়, কবরস্থানসহ অসংখ্য বসতবাড়ি ও চর রসুনন্দি মৌজার বড় অংশ নদীতে বিলীন হয়েছে। বর্তমানে মহাদেবপুর, চরজৌকুড়া ও রামচন্দ্রপুর মৌজার শত শত বসতবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ ও ফসলি জমি চরম ঝুঁকিতে রয়েছে।

ভাঙনকবলিত কৃষক মুন্নাফ বেপারী বলেন, আমাদের যা জমিজমা ছিল, সবই ধীরে ধীরে নদীতে চলে যাচ্ছে। এখন নতুন করে আবার ভাঙন শুরু হয়েছে।

কৃষক মজিবর পরামানিক বলেন, তিন বিঘা জমির মধ্যে দুই বিঘাই আগে নদীতে গেছে। বাকি জমির ফসলও এখন হারিয়ে যাচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আনোয়ার গাজী বলেন, ধান, তিল, বাদাম-সব ধরনের জমিই নদীতে ভেঙে যাচ্ছে। মানুষের মাথায় হাত পড়েছে।

নদীপাড়ের বাসিন্দা নাসিমা বেগম বলেন, তিনবার বাড়ি সরাতে হয়েছে। আবারও নদী ঘরের কাছাকাছি চলে এসেছে।

মিজানপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য শফি মণ্ডল বলেন, প্রতি বছরই ভাঙনে গ্রামের আয়তন কমছে। এবার বর্ষার আগেই ভাঙন শুরু হয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ক্ষতি আরও বাড়বে।

এ বিষয়ে রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. তাজমিনুর রহমান বলেন, শহর রক্ষা বাঁধের উজানের কয়েকটি এলাকায় ভাঙনের ঝুঁকি রয়েছে। ইতোমধ্যে জিও ব্যাগ ও জিও টিউব ফেলে জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ প্রায় ২ দশমিক ৭ কিলোমিটার এলাকা স্থায়ীভাবে রক্ষায় একটি প্রকল্প প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।