‘হারপিক আনেন, আমি টয়লেট পরিষ্কার করব’ হাসপাতাল পরিচালককে কৃষিমন্ত্রী

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালে নোংরা ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কৃষিমন্ত্রী হাজী ইয়াছিন। হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে অপরিচ্ছন্ন টয়লেট দেখে ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. মো. শাহজাহানকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘হারপিক নিয়ে আসেন, আমি টয়লেট পরিষ্কার করব’। মন্ত্রীর এমন মন্তব্যে হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুমেক হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে কৃষিমন্ত্রী হাজী ইয়াছিন হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানও ঘুরে দেখেন। এসময় হাসপাতালের নোংরা ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ দেখে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
মন্ত্রীর এই বক্তব্য হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থাপনা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করেছে। সরকারি একটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগীদের চিকিৎসার পাশাপাশি স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করার দায়িত্ব কর্তৃপক্ষের। সেখানে পরিদর্শনে গিয়ে মন্ত্রীকে যদি টয়লেটের পরিচ্ছন্নতা নিয়ে এমন মন্তব্য করতে হয়, তাহলে হাসপাতালের দৈনন্দিন ব্যবস্থাপনা কতটা কার্যকর সে প্রশ্নই এখন সামনে এসেছে।
এর মধ্যেই কুমেক হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. মো. শাহজাহানকে ঘিরে নানা অভিযোগ ও আলোচনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের সময় তিনি আন্দোলনবিরোধী চিকিৎসকদের একটি কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন। পরে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তার রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তনেরও অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে তিনি কুমেক হাসপাতালের স্থায়ী পরিচালক হতে বিভিন্ন মহলে তদবির করছেন এমন দাবিও করছেন সংশ্লিষ্ট কয়েক চিকিৎসক।
কুমেক হাসপাতালে চিকিৎসকদের দায়িত্ব পালনের বিষয়েও দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ রয়েছে। রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, সকাল ৮টার পরও অনেক চিকিৎসক নিয়মিতভাবে দায়িত্বস্থলে থাকেন না। কেউ কেউ দেরিতে হাসপাতালে এসে রোগী দেখেন। আবার কোনো কোনো চিকিৎসক সরকারি হাসপাতালের দায়িত্বের পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতাল ও ব্যক্তিগত চেম্বারে সময় দেন— এমন অভিযোগও রয়েছে। এর ফলে সরকারি এই হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয় বলে অভিযোগ রোগী ও স্বজনদের।



