logo
Advertisement

সিকৃবির প্রশাসনিক ১১ দায়িত্ব থেকে ৯ জনের পদত্যাগ

এশিয়া পোস্ট নিউজ
এশিয়া পোস্ট নিউজ,সিলেট
সিকৃবির প্রশাসনিক ১১ দায়িত্ব থেকে ৯ জনের পদত্যাগ
সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। ছবি : এশিয়া পোস্ট

সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিকৃবি) উপাচার্য ড. আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ তুলে প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে পাঁচ শিক্ষকসহ ৯ শিক্ষক-কর্মকর্তা পদত্যাগ করেছেন।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তারা রেজিস্ট্রারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন।

এদিকে এ ঘটনার পর উপাচার্যের অপসারণের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের একটি অংশ।

পদত্যাগকারীদের মধ্যে বিভিন্ন আবাসিক হলের প্রভোস্টসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা শিক্ষক-কর্মকর্তারা রয়েছেন। তারা হলেন—বিশ্ববিদ্যালয়ের এমএজি ওসমানী হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. কাউছার হোসেন, শহীদ জিয়া হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইউসুফ মিয়া, হযরত শাহজালাল (র.) হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. নাজমুল হক, হযরত শাহপরান (র.) হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. জসিম উদ্দিন এবং দূররে সামাদ রহমান হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. শাহজাহান মজুমদার।

পদত্যাগকারীদের অভিযোগ, বর্তমান প্রশাসন দায়িত্ব নেওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন ও নির্মাণকাজ, ক্রয়প্রক্রিয়া এবং শিক্ষক নিয়োগে বিভিন্ন অনিয়ম হয়েছে। এসব বিষয়ে আপত্তি জানিয়েও কার্যকর ব্যবস্থা না পাওয়ায় তারা প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

পদত্যাগকারী শিক্ষক-কর্মকর্তারা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন কার্যক্রম একটি প্রতিষ্ঠানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বর্তমান প্রশাসন দায়িত্ব নেওয়ার পর বড় কোনো উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করতে পারেনি। ফলে নির্মাণ ও উন্নয়নকাজ অনেকটা স্থবির হয়ে আছে। এর মধ্যে রাজস্ব খাতের অর্থে কিছু উন্নয়ন ও মেরামতের কাজ করা হলেও এসব কাজে সরকারি ক্রয়বিধি (পিপিআর) যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি বলে তাদের অভিযোগ।

তারা আরও অভিযোগ করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়াম আনুষ্ঠানিকভাবে টেকওভার করার আগেই সেখানে কিছু মেরামতকাজ করা হয়েছে। এসব কাজের প্রয়োজনীয়তা ও বাস্তবায়নপ্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। কয়েকটি ক্ষেত্রে যথাযথ দরপত্র প্রক্রিয়াও অনুসরণ করা হয়নি বলে অভিযোগ তাদের।

ক্রয়প্রক্রিয়া নিয়েও অভিযোগ তুলে পদত্যাগকারীরা জানান, ইলেকট্রনিকস ও আসবাবপত্র কেনার ক্ষেত্রে সরকারি ক্রয়বিধি অনুযায়ী যোগ্যতা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ঠিক থাকলে সর্বনিম্ন দরদাতাকে কাজ দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু কয়েকটি ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন দরদাতাকে বাদ দিয়ে পছন্দের ব্যক্তিকে কাজ দেওয়ার অভিযোগ করেছেন তারা।

শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রেও অনিয়ম ও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ করেছেন পদত্যাগকারী শিক্ষক-কর্মকর্তারা। তাদের অভিযোগ, সাম্প্রতিক নিয়োগে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব গ্র্যাজুয়েটদের তুলনামূলকভাবে কম গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

তারা জানান, আটজন শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রার্থীদের অধিকাংশকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে স্বজনপ্রীতি ও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগও তুলেছেন তারা।

পদত্যাগকারী শিক্ষক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর অধ্যাপক মোজাম্মেল হক বলেন, বর্তমান প্রশাসনের কর্মকাণ্ডে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ ও কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। তিনি উপাচার্যের অপসারণ দাবি করেন।

পদত্যাগকারী শিক্ষক অধ্যাপক ড. মো. কাউছার হোসেন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রশাসনিক পরিস্থিতিতে শিক্ষার পরিবেশ ও শৃঙ্খলা রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এ কারণে তারা প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হয়েছেন।

তবে শিক্ষক-কর্মকর্তাদের তোলা এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আলিমুল ইসলাম।

তিনি বলেন, একটি পক্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান শান্তিপূর্ণ পরিবেশকে অস্থিতিশীল করতে এবং ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে এ ধরনের অভিযোগ তুলছে। যাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তারা যোগ্যতাসম্পন্ন। নিয়োগে কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতি হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।