‘দুই লিটার তেল নিয়া দেহি কতদূর যায়’

‘তেলের জন্য তিন-চার দিন ধরে খেতে পানি দিতে পারতাছি না। দুইবার আইছি পাম্পে তেল নিতে পাই নাই। কেউ বোতলে তেল দিতে চায় না। কয়েকটি পাম্প ঘুরে কোথাও পাই নাই। এবার আইসা মেলাখন বইসা থাইকা দুই লিটার তেল নিলাম। দেহি এই তেল দিয়ে কতখানি পানি দেওয়া যায়।’ আক্ষেপ নিয়ে কথাগুলো বলছিলেন জামালপুর শহরের মেডিকেল কলেজ রোড এলাকার কৃষক আনসার আলী।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকালে শহরের জিগাতলা জুই এন্টারপ্রাইজ দোকানে পাঁচ কিলোমিটার দূর থেকে তেল কিনতে এসেছেন তিনি। ধানের এই মৌসুমে খেতে পানি দিতে না পারায় অসহায়ত্ব প্রকাশ করেন।
আনসার আলীর মতো আরও অনেককে দেখা গেছে পাম্পে ও খুচরা দোকানে তেলের জন্য ঘুরাঘুরি করতে। অনেকেই এক পাম্প থেকে আরেক পাম্পে ঘুরে ঘুরে তেল পাচ্ছেন না। শেষে খালি হাতে ফিরতে বাধ্য হচ্ছেন। কৃষকদের অভিযোগ, কোথাও কোথাও খুচরা দোকানে বেশি দাম দিলে তেল পাওয়া যাচ্ছে। এতে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে তেল মজুত করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
একাধিক কৃষক বলেন, সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকি, তবুও তেল পাওয়া যায় না। কেউ দুই লিটার, কেউ এক লিটার দিয়ে পাঠায়। এই অল্প তেল দিয়ে কয়টা জমি চালানো সম্ভব? যদি দ্রুত তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক না হয়, তাহলে আমরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ব। তবে তেল মজুতের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পাম্প সংশ্লিষ্টরা। তাদের দাবি, ডিপো থেকে পর্যাপ্ত তেল সরবরাহ না হওয়ায় এ সংকট তৈরি হয়েছে।
এদিকে পাম্প সংশ্লিষ্টরাও তেলের সংকটের কথা স্বীকার করেছেন। জিগাতলা এলাকার ‘জুই এন্টারপ্রাইজ’ পাম্পের একজন কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘আমাদের কাছে চাহিদার তুলনায় তেল অনেক কম আসছে। দিনে যত মানুষ আসে, সবাইকে দেওয়া সম্ভব হয় না। তাই বাধ্য হয়ে সীমিত পরিমাণে তেল দিতে হচ্ছে।’
জ্বালানি তেল বিক্রেতা জুই এন্টারপ্রাইজের মালিক মো. জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের প্রতিদিন চাহিদা অনুযায়ী এক গাড়ি করে তেল প্রয়োজন। কিন্তু ডিপো থেকে ৮ থেকে ৯ দিন পর এক গাড়ি তেল পাচ্ছি। সেই তেল আমরা দিচ্ছি। আমাদের কাছে তেল না থাকলে কোথায় থেকে দেব। সবার কাছে অনুরোধ মজুত না করে যার যতটুকু প্রয়োজন ততটুকুই নেন।’
এ বিষয়ে জামালপুর শহরের খাজা পেট্রোলিয়ামের ম্যানেজার মো. শরিফ বলেন, ‘আমরা যতটুকু তেল পাচ্ছি ততটুকুই দিয়ে যাচ্ছি। আমাদের গাড়ি আজ ডিপোতে যাবে। যদি তেল পাই, তাহলে সরবরাহ শুরু করতে পারব। তেল না পেলে দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।’